March 4, 2024
জাতীয়

ডেঙ্গু নিয়ে এখনই সফলতা দাবি করছি না : মন্ত্রী তাজুল

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে বলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে এখনই সফলতা দাবি করছেন না তিনি। ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এইডিস মশা নিধনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার কথাও বলেছেন তিনি।

এ বছর বর্ষার শুরুতে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর ক্রমশ তা ছড়িয়েছে। চলতি আগস্ট মাসেই মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫০ হাজার ৯৭৪ জন, যা গত ১৯ বছরে নথিভুক্ত সব ডেঙ্গু রোগীর মোট সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

তবে জুন থেকে শুরু করে জুলাইয়ে বেড়ে আগস্টের মাঝামাঝি নাগাদ ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বেড়েছিল, তা বেশ কিছুটা কমেছে গত কয়েক দিনে। তবে এখনও প্রতিদিন হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন।

‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভূমিকার’ জন্য ঠিক সপ্তাহ আগে একটি সংগঠনের কাছ থেকে সম্মাননা নিয়েছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল, যা নিয়ে ফেসবুকে বেশ আলোচনা হয়।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘নাগরিক সেবা নিশ্চিতে স্থানীয় সরকারের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এসে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সফলতার বিষয়ে নিজের অবস্থান জানান মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে এখনই সফলতা দাবি করছি না। প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে যদি কেউ মারা না যেত তাহলে আমি সফলতা দাবি করতে পারতাম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে শুক্রবার অবধি সারা দেশে ৬৯ হাজার ৪৩৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫২ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সিটি করপোরেশনের ব্যবহৃত ওষুধে মশা মরে না বলে আইসিডিডিআর, বির গবেষণার তথ্য প্রকাশের পর এ নিয়ে বিস্তার আলোচনা হয়। গত ঈদের আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন চীন থেকে এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভারত থেকে নতুন ওষুধ নিয়ে আসে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশন যে ওষুধ এনেছে তা বেশি কার্যকর। ওই ওষুধই এখন দক্ষিণেও দেওয়া হবে।

এইডিস মশা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ণে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ব্যাপারটা খুব কনসার্নে নিতে হবে। প্রত্যেকটা জিনিসের জন্য একটা টাইমলাইন ঠিক করতে হবে। এখন একটা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। বিষয়টি হয়ত এখনই খুব ফলদায়ক হবে না। তবে লং টার্মে তা কাজে আসবে, এমন কাজ করতে হবে।

বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে উলে­খ করে তাজুল ইসলাম বলেন, এই ব্যাপারটি আমাদের জন্য সিভিয়ার আকার ধারণ করেছে। আমাদের জনসংখ্যা অনেক বেশি। পার ক্যাপিটা ইনকাম বেড়েছে, কনজামপশন বেড়েছে, মাথা পিছু বর্জ্যও তাই বেড়েছে। তবে ফিক্যাল স্লাজ পুড়িয়ে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে শুরু করেছি। সেটা যদি সফল হয়, তবে সারা বাংলাদেশে শুরু করব। ঢাকা মহানগরীতে উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে ঢাকার দুই মেয়র আতিকুল ইসলাম ও সাঈদ খোকনও অপরিকল্পিত নগরায়নের কথা বারবার বলেছেন।

মন্ত্রী তাজুল ইসলামও সে কথার পুনরাবৃত্তি করে সেমিনারে বলেন, অনেকগুলো অবস্ট্যাকলের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, সেটাকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নাই। ডাকটিং করবেন… রাস্তা নির্মাণ করবেন, তাতে যে সমস্ত ইউটিলিটি সার্ভিস আপনারা দেবেন.. দেখবেন ম্যাপও নাই, ডিজাইন  নাই।

কোন খান দিয়ে ইলেকট্রিকের লাইন গেছে, কোন খান দিয়ে পানির লাইন গেছে, কোথা দিয়ে গ্যাসের লাইন গেছে- সব কিছু এখন আননোন অবস্থায় আছে। কোথায় কোন ড্রেন, কোথায় কোন কালভার্ট আর কোথায় কোন পাইপলাইন হয়েছে কোনো তথ্য কোনো অধিদপ্তরে নাই।

রাতারাতিই এ সমস্যার সমাধান হবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, হয়ত টপোগ্রাফি, জিওলজিক্যাল সার্ভে করে আপনি তথ্য দিতে পারবেন। বাট ইট ইজ নট অ্যা ইজি জব। ইউ কান্ট ডু ইট ওভার নাইট। সময় লাগবে। হিউজ টাস্ক। স্থানীয় সরকারের বাজেট ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। তবে আরও বাজেট লাগবে। নগরে নানা সীমাবদ্ধতা নিয়েই রাজধানীর পানির সমস্যা সমাধানে ‘কাস্টমাইজড মডেল’ তৈরির কথাও সেমিনারে বলেন তিনি।

 

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *