ট্রেন দুর্ঘটনায় গাফিলতি পেলে কঠোর ব্যবস্থা : রেলমন্ত্রী

 

 

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় গাফিলতির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। গতকাল বুধবার সকালে সিলেট ওসামানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে এসে তিনি একথা বলেন।

রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল এলাকায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার পড়ে। দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন শতাধিক আরোহী।

ট্রেনটির পাঁচটি বগি লাইন ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এর মধ্যে একটি বগি বড়ছড়ার কালভার্ট ভেঙে নিচে ছড়ায় পড়ে; আর দুটি বগি উল্টে পড়ে লাইনের পাশের ক্ষেতের মধ্যে। দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা ও আহতদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, সিলেট-ঢাকা রেলপথ দ্রুত ডুয়েল গেজে পরিণত হতে যাচ্ছে। ঢাকা-সিলেট রেলপথের আখাউড়া পর্যন্ত ডুয়েলগেজে রূপান্তরিত হয়েছে। আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েল গেজে রুপান্তরিত করতে ইতিমধ্যেই একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে এই রুটে আরও ১৬টি নতুন রেলস্টেশন নির্মাণ হবে এবং সিলেট রেল স্টেশনকে আরও আধুনিকভাবে নির্মাণ করা হবে।

কুলাউড়ার ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে কিনা এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তদন্তে কারও গাফিলতি কিংবা কাজে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ জানতে দুটি তদন্ত কমিটি করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

একটি কমিটি করা হয়েছে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ মেক্যানিকাল ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে। এই কমিটির অপর সদস্যরা হলেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ ইঞ্জিনিয়ার, চিফ সিগন্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনস ইজ্ঞিনিয়ার এবং চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট।

এছাড়া বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. মইনুল ইসলামকে প্রধান করে আরেকটি তদন্ত কমিটি করেছে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল। এই কমিটির সদস্য পাঁচজন। বুধবার কুলাউড়ায় রেল দুর্ঘটনায় আহতদের খোঁজ খবর নেওয়া এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রেলযোগে সকালে সিলেট পৌঁছেন রেলপথ মন্ত্রী।

মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল এই রেল বিভাগ। ২০১১ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রেলপথের উন্নয়নে হাত দিয়েছে। সারা দেশেই মিটারগেজ রেল লাইনগুলো ডুয়েল গেজে রূপান্তরের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

রেল লাইন জরাজীর্ণ থাকায় রেল ভ্রমণে বেশি সময় লাগে উলে­খ করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া এই লাইনগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত ভালো অবস্থায় নেওয়া না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত সময় তো লাগবেই।

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.