টুইটার কর্মীদের কর্মঘণ্টা বাড়িয়ে দিলেন ইলন মাস্ক

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক টুইটার কিনে নেওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা বেশ চাপের মুখে রয়েছেন। টুইটার কার্যালয়ে পা রাখার পরপরই ইলন মাস্ক প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন।

এরপর চলতি সপ্তাহের শুরুতে টুইটার থেকে ৫০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেন তিনি। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় শুরু হয়।

আর এবার টুইটার কর্মীদের অফিসে এসে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করার নির্দেশ দিলেন মাস্ক। টুইটারের মালিকানা নেওয়ার দুই সপ্তাহ পর বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটির সব কর্মীদের কাছে ই-মেইল পাঠিয়েছেন মাস্ক।

ই-মেইলে তিনি বলেছেন, টুইটারের কর্মীদের বর্তমানে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। কর্মীরা অফিসের বাইরে কাজ করতে পারবেন না। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া বাড়িতে বসে কাজ করার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হবে না। বিশেষ ক্ষেত্রগুলো তিনি নিজে খতিয়ে দেখবেন। পাশাপাশি ই-মেইলে স্পষ্ট করে জানানো হয়, প্রতি সপ্তাহে টুইটারের কর্মীদের কমপক্ষে ৪০ ঘণ্টা অফিসে কাজ করতে হবে।

ইলন মাস্ক টুইটারের মালিক হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির অনেক কর্মী বাসায় থেকে কাজ করার সুবিধা পেতেন। করোনা মহামারির সময়ে চালু হওয়া এ সুবিধা এখন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। কিন্তু সেই সুবিধা এবার বাতিল করলেন বর্তমান মালিক মাস্ক।

এছাড়া টুইটারের স্টাফ ক্যালেন্ডার থেকে বিশেষ ছুটির দিনগুলোও বাতিল করেছেন মাস্ক। কর্মীদের জন্য টুইটারের বিশেষ কিছু ছুটির ব্যবস্থা ছিল। সেই ছুটিগুলোকে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন মাস্ক।

অফিসে এসে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের নিয়ম এর আগে ইলন মাস্ক ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং রকেট নির্মাতা কোম্পানি স্পেস এক্সে চালু করেছিলেন। মাস্কের মালিকানাধীন এই দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের চলতি বছরের জুনে এক ই-মেইল বার্তায় বলা হয়েছিল, অফিসে এসে সপ্তাহে ন্যূনতম ৪০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে, নয়তো চাকরি ছাড়তে হবে।

টুইটার কর্মীদের ওপর মাস্কের মালিকানার কেমন প্রভাব পড়েছে, তা গত সপ্তাহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ছবি দেখেই অনেকে আন্দাজ করেছিলেন। ওই ছবিতে টুইটারের সান ফ্রান্সিসকো অফিসের একজন ম্যানেজারকে রাতে অফিসের মেঝেতেই বিছানা পেতে ঘুমাতে দেখা গিয়েছিল।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *