টানা চতুর্থ জয় ঢাকা ডায়নামাইটসের

ক্রীড়া ডেস্ক
ঢাকা ডায়নামাইটসের জয়ের রথ চলছেই। রাজশাহী কিংস, খুলনা টাইটানস এবং রংপুর রাইডার্সের পর সিলেট সিক্সার্স। বিপিএলের চলমান ষষ্ঠ আসরে নিজেদের প্রথম চার খেলায় টানা জয় পেল সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন ঢাকা। গতকাল শনিবার বিপিএলের ১২তম ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সকে ৩২ রানে পরাজিত করে ঢাকা। এই জয়ে চার খেলায় ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান অক্ষুণœ রাখল ডায়নামাইটস।
এদিন মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৭৩ রান সংগ্রহ করে ঢাকা। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ডায়নামাইটসের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ১৪১ রানে গুটিয়ে যায় সিলেট। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন নিকোলাস পুরান। শনিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শুরুতে হজরতউল­াহ জাজাইয়ের উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় ঢাকা ডায়নামাইটস।
দলীয় ৪ রানে সাজঘরে ফেরেন হজরতউল্লাহ্‌ জাজাই। ঢাকা ডায়নামাইটসের এই আফগান ওপেনারকে মাত্র ৪ রানে ফেরান সোহেল তানভির। ঢাকার হয়ে প্রথম দুই ম্যাচে (৭৮ ও ৫৭) রানের বন্যা বইয়ে দেন জাজাই। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচে ১ ও ৪ রানে ফেরেন এই আফগান।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সুনীল নারিনকে সঙ্গে নিয়ে ৬৭ রানের জুটি গড়েন রনি তালুকদার। এরপর ৫৪ রানের ব্যবধানে ৬ উইকেট হারায় ঢাকা ডায়নামাইটস। ২১ বলে ২৫ রান করা নারিনকে ফেরান অলক কাপালি। এরপর দুর্দান্ত খেলতে থাকা রনি তালুকদার ফিফটি করার পর আফিফ হোসেনের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন। তার আগে ৩৪ বলে ৫৮ রান করেন রনি।
১৭ বলে ২৩ রান করা ঢাকা ডায়নামাইটসের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে ফেরান আল-আমিন হোসেন। সাতে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৫ রানে ফেরেন আন্দ্রে রাসেল। ৩ রানের বেশি করতে পারেননি কায়রন পোলার্ড। রানের খাতা খোলার সুযোগ পাননি শুভাগত।
১২৫ রানে ৭ উইকেট পতনের পর অষ্টম উইকেট জুটিতে নাঈম শেখকে সঙ্গে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৪৮ রানের জুটি গড়েন নুরুল হাসান সোহান। ইনিংসের শেষ দিকে তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ১৭৩ রান সংগ্রহ করে ঢাকা। ২৫ ও ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম ও সোহান। সিলেটের হয়ে ৩৮ রানে ৩ উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ।
১৭৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে চরম বিপদে পড়ে যায় সিলেট সিক্সার্স। সাকিবে ঘূর্ণি বলে বিভ্রান্ত হয়ে দলীয় ৩৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে সিলেট।
ইনিংসের প্রথম ওভারে সিলেটের তারকা ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নারকে সাজঘরে ফেরান সাকিব। এরপর তিনে ব্যাটিংয়ে নামা আফিফ হোসেন ফেরেন শুভাগত হোমের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে। সুনীল নারিনের বলে শুভাগতর ক্যাচে পরিণত হন অন্য ওপেনার লিটন দাস।
চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি নাসির হোসেন। তাকে ১ রানের বেশি করতে দেননি সাকিব। দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে হাল ধরতে পারেননি সাব্বির রহমান রুম্মন। মাত্র ১২ রানে ফেরেন জাতীয় দল থেকে শৃঙ্খলা ভঙের অভিযোগে বাদ পড়ে যাওয়া এই ক্রিকেটার।
রুবেল হোসেনের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন অলক কাপালি। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় সিলেট সিক্সার্স। সিলেটের ব্যাটসম্যানদের যাওয়া-আসার মিছিলে একাই লড়াই করেন নিকোলাস পুরান। তার একার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ১৪১ রান তুলতে সক্ষম হয় সিলেট। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৭ বলে ৭২ রান করেন নিকোলাস।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.