ঝুলে থাকা কর্ণফুলী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শেষের নির্দেশ

 

 

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে হাই কোর্ট। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দরের চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ৪ ফেব্র“য়ারি থেকে পাঁচ দিন নগরীর সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে ২৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

পতেঙ্গা এলাকার মোহনা থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার এলাকায় কর্ণফুলীর দুই তীর থেকে দুই হাজার ১১২টি স্থাপনা উচ্ছেদ করার কথা রয়েছে জেলা প্রশাসনের।

প্রথম পর্বের উচ্ছেদ অভিযান শেষে ৯ ফেব্র“য়ারি ওই এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছিলেন, ‘চার-পাঁচ দিনের মধ্যে’ দ্বিতীয় পর্যায়ে কর্তফুলি তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ফের শুরু হবে। তবে এর পর আর উচ্ছেদ অভিযান না হওয়ায় এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

এই প্রেক্ষাপটে রোববার একটি আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাই কোর্ট বেঞ্চ নদী তীরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের এই আদেশ দিল। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হাঠৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে আমরা আজকে একটা আবেদন করেছিলাম।

শুনানিতে আমরা প্রার্থনা করেছিলাম যে, আগে যে আদেশ দেওয়া হয়েছিল সেখানে ডেপুটি কমিশনারসহ আরও পাঁচ বিবাদীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য। কিন্তু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এখন যে জায়গাগুলোতে অবৈধ স্থাপনা আছে সে জায়গাগুলো মূলত বন্দরের। এই জন্য আমরা একটি নির্দেশ প্রার্থনা করেছিলাম, বন্দরের চেয়ারম্যানকে একটা নির্দেশ দেওয়ার জন্য।

দীর্ঘ শুনানি শেষে বন্দরের চেয়ারম্যান ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে যেসব অবৈধ স্থাপনা আছে সেগুলো জরিপ প্রতিবেদন ও আরএস অনুসারে উচ্ছেদ করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছে আদালত। এই বিষয়ে আগামী ১৯ মে পরবর্তী শুনানির দিন রাখা হয়েছে বলে জানান এই আইনজীবী।

কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ দখল সংক্রান্ত খবর ও প্রতিবেদন ২০১০ সালে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরে প্রকাশিত ওই সব খবর ও প্রতিবেদন যুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ জনস্বার্থে হাই কোর্টে রিট করে।

পরে রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৬ অগাস্ট আদালত কর্ণফুলী নদীর তীরে থাকা দুই হাজার ১৮৭টি অবৈধ স্থাপনা সরানোর পাশাপাশি রায়ে ১১ দফা নির্দেশনা দেয়।

রায়ে বলা হয়, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর সাতদিনের মধ্যে জেলা প্রশাসক অবৈধ স্থাপনা সরাতে স্থানীয় দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন। বিজ্ঞপ্তি জারির ৯০ দিনের মধ্যে অবৈধ দখলদাররা তাদের স্থাপনা অপসারণ করবেন।

যদি তা না করেন, তাহলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসক অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করবেন। এরপর হাই কোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

এরপর ওই রায়ের অনুলিপি বিবাদীদের কাছে পাঠানো হলেও সংশ্নিষ্টরা তা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে গত বছর ২৫ জুন সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

তবে বিবাদীদের কাছ থেকে কোনো জবাব না পেয়ে তাদের আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। সে আবেদনের শুনানি শেষে গত বছর ৩ জুলাই আদালত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে কর্ণফুলী নদী রক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বাস্তবায়ন না করায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করে।

আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয় রুলে। চট্টগ্রামের মেয়র ছাড়াও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

উচ্চ আদালতের এ আদেশের পর আড়াই বছরেরও বেশি সময় আগের রায় বাস্তবায়নে চলতি বছরের ৪ ফেব্র“য়ারি কর্ণফুলী নদী পাড়ের ২১৮৭ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। কিন্তু হঠাৎই উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোববার আবার এ আবেদন করে রিটকারী পক্ষ।

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.