July 23, 2024
জাতীয়

জাহালমকাণ্ড নিয়ে নাটক-চলচ্চিত্র নয়, হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা

জাহালমকে আটকের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই ঘটনা নিয়ে নাটক, চলচ্চিত্রসহ এজাতীয় যেকোনো কিছু নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাই কোর্ট।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনে সাড়া দিয়ে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চে বুধবার এ আদেশ দেয়।

জাহালমকাণ্ডের বিষয়টি ‘বিচারাধীন’ যুক্তি তুলে ধরে মঙ্গলবার হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি করে দুদক।

বুধবার সে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার কাজল।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান পরে সাংবাদিকদের বলেন, “জাহালম সংক্রান্ত একটি মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে গতকাল একটা আবেদন দিয়েছিলাম। সেটির শুনানি নিয়ে আদালত এ সংক্রান্ত জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জাহালম নিয়ে সিনেমা, নাটক, শর্ট ফিল্মসহ এজাতীয় কোনো কিছুই করা যাবে না। আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।”

সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় পাটকল শ্রমিক জাহালমকে আবু সালেক হিসেবে চিহ্নিত করে মামলা করে দুদক। পরে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জাহালমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্যের অপরাধে তিন বছর ধরে জেল থাকা জাহালমকে নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদন করে একটি টেলিভিশন চ্যানেল ও একটি দৈনিক পত্রিকা।

প্রচার ও প্রকাশিত প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী হাই কোর্টের নজরে আনলে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত জাহালমকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। আদালতের আদেশর পর রাতেই জাহালম মুক্তি পান।

ওইদিনের আদেশে আদালত রুল জারি করে জানতে চেয়েছিল জাহালমের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। সে রুলটিই বিচারাধীন।

এরই মধ্যে জাহালমের জীবনের এই গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে জানান মারিয়া তুষার নামের একজন নির্মাতা।

গত সোমবার আইনজীবী খুরশীদ আলম খান চলচ্চিত্র নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সংশ্লিষ্ট হাই কোর্ট বেঞ্চে আবেদন করার কথা জানিয়েছিলেন। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় নির্মাতা মারিয়া তুষার ‘জাহালম’ চলচ্চিত্র নির্মাণ স্থগিত ঘোষণা করেন।

সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় পাটকল শ্রমিক জাহালমকে আবু সালেক হিসেবে চিহ্নিত করে ৩৩টি মামলা করে দুদক। পরে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জাহালমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জাহালম তিন বছর কারাগারে ছিলেন।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবুড়িয়া গ্রামের জাহালম নরসিংদীর একটি পাটকলে কাজ করতেন। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে থাকতেন সেখানে।

২০১৬ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের এক মামলার আসামি ‘আবু সালেক’ হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় জাহালমকে। জাহালমের ভাষ্য, তখন তিনি বারবার বলছিলেন যে তিনি সালেক নন, কিন্তু তাতে কান দেননি দুদক কর্মকর্তারা।

বিনা অপরাধে জাহালমের কারবাসের ঘটনা গণমাধ্যমে দেখে তাকে মুক্তি দিতে আদেশ দেয় হাই কোর্ট। ওই আদেশে গত মাসে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

কীভাবে একজন নির্দোষ ব্যক্তি কারাগারে গেলেন এবং তার দায় কার, এখন তা বের করতে চাইছে আদালত।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *