জামায়াত আগে ক্ষমা চাক, তারপর দেখা যাবে : ওবায়দুল

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামী যদি জাতির কাছে ক্ষমা চায় তাহলে তাদের পুনর্মূল্যায়ন করা হবে কি না সে বিষয়টি ভেবে দেখবেন তারা। এখন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না বলে জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য দেশের মানুষের কাছে ‘ক্ষমা না চাওয়ার’ কারণ দেখিয়ে জামায়াতে ইসলামী থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।
শুক্রবার তার পদত্যাগের খবর প্রকাশের পরপরই ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, “আমি আবার এটাও দেখেছি কোনো কোনো মিডিয়ায়, জামায়াতের নবীন-প্রবীণের দ্ব›দ্বটা খুবই স্পষ্ট। যারা প্রবীণ তারা তাদের পুরনো নীতি-কৌশল-আদর্শ সেটা আঁকড়ে থাকতেই অটল।
“নতুনরা চেঞ্জ চাচ্ছে। এটাকে কেন্দ্র করে জামায়াত সিদ্ধান্তহীনতায় আছে। তারা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তবে সেটা তাদের ইন্টারনাল ম্যাটার, তারা কী সিদ্ধান্ত নেবে।”
আদালতের আদেশের পর নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন বাতিল করে দিলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ কোনো ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ হারালেও দল হিসেবে সক্রিয় রয়েছে জামায়াত।
একাদশ নির্বাচনে জামায়াতের ২৫ জন নেতা স্বতন্ত্রভাবে ও ধানের শীষ প্রতীকে ভোটে অংশ নেয়।
নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকা রাখা জামায়াতের নাম বদল করে নতুভাবে রাজনীতিতে আসার জন্য দলের একাংশ প্রস্তাব করেছে বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
তারা নতুনভাবে রাজনীতিতে এলে আওয়ামী লীগের অবস্থান কী হবে- প্রশ্ন করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আওয়ামী লীগ স্বাগত জানাবে কি জানাবে না সেটা তো এখানে কোনো বিষয় নয়।
“তারা অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে কি না? তারা ক্ষমাপ্রার্থী কি না? তারা ক্ষমাটা আগে চাক। তারপর বলব।”
যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দল জামায়াতকে নিয়ে কাদের বলেন, “তারা ক্ষমা চাওয়ার পরেই এ ব্যাপারে আমাদের মূল্যায়নটা, আমাদের বিশ্লেষণ নিয়ে, আমাদের রিঅ্যাকশনটা আমরা প্রকাশ করতে পারি।”
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের দল জামায়াতকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়েও জামায়াতকে ‘ক্রিমিনাল’ সংগঠন বলা হয়েছিল।
গোলাম আযমসহ দলটির শীর্ষনেতাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলার রায় পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘ক্রিমিনাল দল’ জামায়াত একাত্তরে তাদের ভূমিকার জন্য কখনো ক্ষমা চায়নি।
আর আদালতে মামলা থাকার কারণে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীকে সরকার নিষিদ্ধ করতে পারছে না উলে­খ করে ফেব্র“য়ারির শুরুতে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেন, নিবন্ধনের মতো আদালতের রায়েই জামায়াত নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।
তবে একাত্তরের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চাইলে জামায়াতের জন্য ‘দরজা খোলা’ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে এর আগে মন্তব্য করেছিলেন স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদানের জন্য ‘বীর উত্তম’ খেতাব পাওয়া আব্দুল কাদের সিদ্দিকী।
আর ২০১৪ সালে বিবিসি সংলাপের এক পর্বে সে সসময় আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকা জাতীয় পার্টির নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছিলেন, একাত্তরের ভূমিকার জন্য যদি ক্ষমা প্রার্থনা করে তাহলে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ না করাটাই ‘বেটার’।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.