জাতিকে দেবে নতুন জীবনীশক্তি ‘মুজিববর্ষ’

 সরকারের এক বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী

 

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপন জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের বর্ষপূর্তিতে গতকাল মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই আশা প্রকাশ করেন।

ভাষণের শুরুতেই সবাইকে খ্রিষ্টীয় নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ আমাদের জাতীয় জীবনে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর উদযাপিত হতে যাচ্ছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। আগামী ১৭ই মার্চ বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুভ সূচনা হবে।

সরকার যে আগেই ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানমালা যুগপৎভাবে চলতে থাকবে।

এই উদযাপন শুধু আনুষ্ঠানিকতা-সর্বস্ব নয়, এই উদযাপনের লক্ষ্য জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করা; স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে জাতিকে নতুন মন্ত্রে দীক্ষিত করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া।

ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুলভোটে বিজয়ী হয়ে গত বছর ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে চতুর্থবারের মত সরকার গঠন করে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার চতুর্থবার শপথ নেওয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি আজ। আমি এই শুভক্ষণে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি জাতীয় চার-নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। মুক্তিযোদ্ধাদের আমি সালাম জানাচ্ছি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের শিকার বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের কথা ‘গভীর বেদনার সঙ্গে’ স্মরণ করেন জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কথাও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের যে নেতাকর্মীরা নিহত হয়েছেন, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ‘বিএনপি-জামায়াত জোটের ‘অগ্নি সন্ত্রাস এবং পেট্রোল বোমায়’ যাদের প্রাণ গেছে তাদের সবার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী আহত ও স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের স্মরণ আছে, গত বছর সরকার গঠনের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণে আমি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শোধরানোর আহŸান জানিয়েছিলাম। আমি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করি। মানুষের কল্যাণের জন্য আমি যে কোন পদক্ষেপ করতে দ্বিধা করবো না। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমি আবারও সবাইকে সতর্ক করে দিতে চাই- দুর্নীতিবাজ যে-ই হোক, যত শক্তিশালীই হোক না কেন – তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহŸান থাকবে, যে-ই অবৈধ সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। সাধারণ মানুষের ‘হক’ যাতে কেউ কেড়ে নিতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির স¤প্রসারণের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির নর্মিূল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি বন্ধে জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি। মানুষ সচেতন হলে, দুর্নীতি আপনা-আপনি কমে যাবে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর এ ভাষণ রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমগুলোতে একযোগে স¤প্রচার করা হয়।

 

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.