চার জেলার কিছু কেন্দ্রে ২০১৮ সালের প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
গতকাল শনিবার শুরু হয়েছে দেশব্যাপী এসএসসি পরীক্ষা। প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এদিন দেশের চারটি জেলার কিছু কেন্দ্রে ২০১৮ সালের প্রশ্ন পত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটে। জেলাগুলো হলো- সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, জামালপুর ও মুন্সীগঞ্জ। যদিও কোনো কোনো জায়গায় পরে নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আবার চট্টগ্রামে বাংলার স্থলে গত বছরের গণিত প্রশ্ন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল এপিসি স্কুল এসএসসি কেন্দ্রে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় কেন্দ্রসচিব সুখলাল বাইনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে প্রায় তিন ঘণ্টা পর নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার্থীদের ফের পরীক্ষা নেয়া হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের প্রশ্নপত্র বণ্টনের প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে পরে তাদের নতুন বছরের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ছিল বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা। চাম্পাফুল এপিসি স্কুল কেন্দ্রে ৪৪০ পরীক্ষার্থীর বেশির ভাগের হাতে এ বছরের প্রশ্ন পৌঁছালেও ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর হাতে আসে ২০১৮ সালের বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র। তারা এই প্রশ্নে পরীক্ষাও দেয়। বেলা ১টা বাজার কয়েক মিনিট আগে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। পরে তাদের সব উত্তরপত্র সংগ্রহ করে নেয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরো জানান, তাৎক্ষণিকভাবে যশোর বোর্ডের অনুমতি নিয়ে ওই ৪৮ জনের কাছে পৌঁছে দেয়া হয় নতুন বছরের প্রশ্নপত্র। দুপুর ১টা থেকে শুরু হয় তাদের পরীক্ষা।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানান, এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে চট্টগ্রামের চারটি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া শনিবার সারাদেশে একযোগে বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও ওই চার কেন্দ্রে গণিত পরীক্ষা দিয়েছে পরীক্ষার্থীরা। তাও আবার ২০১৮ সালের সিলেবাস অনুসারে প্রণীত গণিত প্রশ্নপত্র।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা চারটি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার খবর পেয়েছি। তবে কতজন পরীক্ষার্থী এ ভুলের শিকার হয়েছেন তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। বিস্তারিত খবর নেওয়ার পর বলতে পারবো।
ভুলপ্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে, নগরীর ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মিউনিসিপ্যাল মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, কক্সবাজারের প্রেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও উখিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র।
জামালপুর প্রতিনিধি জানান, এসএসসির নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ২০১৮ সালের অনিয়মিত প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে পরীক্ষার্থীরা।
জেলা প্রশাসক বলেছেন, যেভাবে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে সেইভাবেই মূল্যায়ন করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সদর উপজেলার কেন্দুয়ায় বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেসহ কয়েকটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের প্রথমে নিয়মিত পরীক্ষাদের ২০১৮ সালের অনিয়মিত প্রশ্ন পত্র দেয়া হয়। ২০ মিনিট পর তা পাল্টিয়ে ২০১৯ সালের নিয়মিত প্রশ্ন দেয়া হয়। এতে বিপাকে পড়ে ২১৩ পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষে তারা বিক্ষোভ করে।
একই ঘটনা ঘটে জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার উলফাতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রের ২৯৫ জন পরীক্ষার্থী ২০১৮ সালের অনিয়মিত প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষা শেষে এখানেও পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে।
বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা এই পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানায়।
এ ছাড়াও ইসলামপুরের নেকজাহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সদর উপজেলার তুলশিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে একই অভিযোগের খবর পাওয়া গেছে।
অনিয়মিত প্রশ্নে পরীক্ষার নেয়ার বিষয়ে জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবির বলেন, বিষয়টি বোর্ড কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। যে প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। সেইভাবেই পরীক্ষার মূল্যায়ন করা হবে এবং এর জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলায় একটি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার বাংলা বিষয়ে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রে ৭৯ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার এভিজেএম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসমা শাহীন বলেন, ‘কক্ষ পরিদর্শকের ভুলে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানিয়েছি। এটা কক্ষ পরিদর্শকের ভুল। বিষয়টি হলসুপার বা কেন্দ্রসচিবকে জানানোর কথা থাকলেও কক্ষ পরিদর্শকেরা তা জানায়নি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য বোর্ড এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জেলা প্রশাসকও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছেন।’
পরীক্ষার্থীদের দাবি, সৃজনশীল অংশের প্রশ্নটি ২০১৮ সালের ছিল। পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের কয়েকজন বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানালেও তারা তা আমলে নেননি। কেকে গভ. ইন্সটিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মো. মনসুর রহমান বলেন, ‘সাংঘাতিক ও মারাত্মক একটি ভুল। এ কারণে পরীক্ষার্থীরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কেন্দ্র সচিব, কক্ষ পরিদর্শকের গাফিলতির কারণে এটা হয়েছে।
কেন্দ্রসচিব ও এভিজেএম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শিউলি আক্তার বলেন, দুটি কক্ষে এ রকম সমস্যা হয়েছে। কেকে গভ. ইন্সটিটিউশনের ৪০ পরীক্ষার্থী, মুন্সীগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ২০ পরীক্ষার্থী ও রামপাল এনবিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯ জন পুরনো প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। এটি কক্ষ পরিদর্শকের ভুল। তাদের আর ডিউটি দিতে নিষেধ করেছেন জেলা প্রশাসক।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.