গুলশানে গারো কিশোরী ধর্ষণ: গ্রামীণফোন কর্মকর্তা গ্রেফতার

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
রাজধানীর গুলশান কালাচাঁদপুরের বৌবাজার এলাকায় গারো কিশোরী ধর্ষণ মামলার এজহারভুক্ত আসামি গ্রামীণফোনের এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম মো. ইউসুফ। তিনি গ্রামীণফোনের আইটি টেকনিশিয়ান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাপ্তানবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৩ ও ডিবির যৌথ টিম তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-৩ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্নেল এমরানুল হাসান বলেন, গত ১৯ বছর ধরে ইউসুফ গ্রামীণফোনে চাকরি করেন। তিনি দুটি বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রী ৩ কন্যাসন্তান নিয়ে উত্তর বাড্ডার একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। মঙ্গলবার নিজ বাসায় কিশোরী গৃহকর্মীকে ধর্ষণ করেন ইউসুফ। এরপর কাপ্তানবাজারে ভাগনের বাসায় আত্মগোপনে চলে যান তিনি।
লে. কর্নেল এমরানুল হাসান বলেন, ২০০৮ সালে ইউসুফ এক উপজাতি নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরে ওই নারী ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন। তার নাম খুশি বেগম। খুশি বেগমকে নিয়ে ইউসুফ কালাচাঁদপুরের বৌবাজার এলাকার একটি বাসায় এক রুম ভাড়া নিয়ে থাকতেন। গত ২৬ জানুয়ারি দুই হাজার টাকা বেতনে ১৬ বছর বয়সী এক গারো কিশোরীকে গৃহকর্মী হিসেবে তার বাসায় নিয়োগ দেয়া হয়। ওই কিশোরীর চাচাতো বোন মেরি মারার মাধ্যমে খুশি বেগম তাকে গৃহকর্মীর কাজ দেন। বাসায় অন্য কোনো রুম না থাকায় ফ্লোরেই ঘুমাতেন ওই গৃহকর্মী।
র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ইউসুফের দ্বিতীয় স্ত্রী খুশি বেগম সুইজ্যারল্যান্ড দূতাবাসের এক কর্মকর্তার বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। বুধবার সকালে খুশি বেগম কাজের জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে গেলে ইউসুফ তার বাসার কিশোরী গৃহকর্মীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
এমরানুল হাসান বলেন, ধর্ষণের পর ওই কিশোরী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে ইউসুফ বিষয়টি মোবাইল ফোনে খুশি বেগমকে জানান। খুশি দ্রুত বাসায় এসে দেখেন কিশোরীটি রক্তাক্ত অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে আছে। এরপর খুশি বিষয়টি কিশোরীর চাচাতো বোন মেরি মারাকে জানান। মেরি বাসায় আসার পর কিশোরীকে প্রথমে গুলশান নতুন বাজারের উপশম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থায় উন্নতি না হওয়ায় দুপুর ২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেয়া হয়। সেখানে জ্ঞান ফেরার পর তিনি সবকিছু খুলে বলেন। এখনো ওই কিশোরী ওসিসিতে চিকিৎসাধীন। তবে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার জানিয়েছেন।
গুলশান থানার এসআই নুরুজ্জামান বলেন, ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর বোন মেরি মারা বাদী হয়ে বুধবার রাতে গুলশান থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় ইউসুফকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
এসআই বলেন, মামলার তদন্তভার পাওয়ার আগেই ঘটনাস্থলে যাই। জব্দ তালিকা তৈরির পাশাপাশি ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করি। শুক্রবার গ্রেফতার ইউসুফকে আদালতে হাজির করা হবে। তিনি জানান, ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাড়ি শেরপুরে। ধর্ষক ইউসুফের বাড়ি নোয়াখালী বেগমগঞ্জের ল²ীনারায়ণপুরে।
মামলার বাদী মেরি মারা বলেন, ইউসুফের বয়স প্রায় ৫০ বছর। আর গৃহকর্মী কিশোরীর বয়স ১৬ বছর। ইউসুফের প্রথম ঘরের সন্তানরা ওই গৃহকর্মীর চেয়ে বয়সে বড়। নিজের সন্তানের চেয়ে ছোট মেয়েকে ধর্ষণ করে ইউসুফ জঘন্য অন্যায় করেছেন। আমি তার উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *