February 25, 2024
জাতীয়

গাজীপুরে মধ্যরাতে রেস্তোরাঁয় বিস্ফোরণ, আহত ১৮

 

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার মধ্যরাতে বিকট বিস্ফোরণে পাশাপাশি লাগোয়া দুটি রেস্তোরাঁ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে; আহত হয়েছেন অন্তত ১৮ জন।শনিবার রাত ২টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বাংলার রাঁধুনী ও তৃপ্তি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে বলে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল­াহ আল মামুন জানান। আহতরা সবাই ওই দুই খাবার হোটেলের কর্মী। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মামুন বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের ধারণা করছে। দুই হোটেলে পাইপলাইনের গ্যাসের পাশাপাশি সিলিন্ডারও ছিল। তবে ঠিক কীভাবে ওই বিস্ফোরণ ঘটেছে তা তদন্ত শেষে বলা যাবে।

গাছা থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, পাশাপাশি তিন ও চার তলা দুটি ভবনের নিচতলায় ওই দুই খাবার হোটেল। দুই হোটেলের মাঝ বরাবার স্যুয়ারেজ লাইন গেছে। ওই লাইন ছিল ঢাকনা দেওয়া। হতে পারে ময়লা আটকে গিয়ে সেখানে গ্যাস জমে গিয়েছিল। এর আগেও কিছুটা দূরে এই স্যুয়ারেজ লাইনেই বিস্ফোরণ হয়েছিল গত রোজায়।

রাঁধুনী হোটেলের রুটির কারিগর মো. জমির উদ্দিন বলেন, রাত পৌনে ২টার দিকে তাদের হোটেলের মেঝের নিচ দিয়ে যাওয়া জ্যাম হয়ে থাকা পিভিসির পাইপ পরিষ্কার করা হয়। পরে  ওই পাইপের মুখটির ঢাকনা লাগানোর সময় হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে গরম বাতাস বইতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই বাতাস তাকে ঠেলে নিয়ে হোটেলের ভেতর থেকে বাইরের দিকে ফেলে দেয় এবং বিকট শব্দ হয়। কিছুক্ষণ পর তার উপর ইট-সুরকি ও মিষ্টির শোকেসের কাচ গিয়ে তার উপর পড়ে। এতে তিনি আহত হন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। তার মনে হয়েছে বিস্ফোরণের উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলার রাঁধুনী হোটেল। তাতে পাশের তৃপ্তি হোটেলের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিকট ওই বিস্ফোরণের পর খাবার হোটেল থেকে ছিটকে যাওয়া ইটের টুকরোর আঘাতে মহাসড়কের উল্টো পাশের বোর্ডবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাঁচতলার কাচ ভেঙে যায়।

খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তবে তার আগেই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে তায়রুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যায়। সেখান থেকে ১৮ জনকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপালে।

গাজীপুর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ার স্টেশন অফিসার মো. জাকারিয়া খান বলেন, হোটেলে বিস্ফোরণ আর আগুনের খবর পেয়ে আমরা গিয়েছিলাম। বিস্ফোরণে হোটেলের দেয়াল ধসে পড়েছে, পলেস্তরা খসে পড়েছে। তবে আগুন ছড়ায়নি।

বাংলার রাঁধুনী হোটেলের ম্যানেজার সুমন (২৬) নিজেও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাতে কাজ শেষে তারা যখন হোটেল বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই ওই বিস্ফোরণ ঘটে।

সুমন ছাড়াও আল আমীন (৩২), আরিফুল (১৮), জুবায়ের (১৬), নাজমুল (২২), জাহিদ (২৫), আলমগীর (২৭), মারুফ (১৩), মাসুদ (১৮), সুফিয়ান (২২), জাহাঙ্গীর (২০), শুকুর (১৯), রাশেদ (২২), তুহিন (২২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে মেডিকেল ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মোট ১৮ জনকে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে তিননকে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিস্ফোরণে ওই হোটেলের দক্ষিণ পাশে থাকা ভাই ভাই সুপার মার্কেটের কয়েকটি দোকান, পেছনে থাকা নুরুল ইসলামের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিস্ফোরণের সময় হোটেলের ইট, শাটার ও পিলার ভেঙ্গে গিয়ে স্প্লিন্টারের মত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে থাকা মসজিদে আঘাত করে। এতে পাঁচ তলা ওই মসজিদের জানালার কিছু গ্লাস ভেঙ্গে যায় এবং মিনারে থাকা মাইকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিনুর ইসলামকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান শাহিনুর রবিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুই হোটেলের মাঝখান দিয়ে (মেঝের নিচ দিয়ে) যাওয়া সুয়ারেজ লাইনে এবং হোটেল দুইটির সামনে থাকা ড্রেনে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণ থেকেই ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার সকালে গাজীপুর মহানগরের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন এবং বিকালে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে র‌্যাব-১-এর কোম্পারি কমান্ডার আব্দুল­াহ আল মামুন বলেন, দুপুরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দলের ছয় সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিস্ফোরণ স্থলের নমুনা নিয়ে গেছেন। ওই নমুনা পরীক্ষার পর বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্বন্ধে বলা যাবে।

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *