খুলনায় সড়কে মৃত্যুর মিছিল

* এবার ট্রাক চাপায় কলেজ শিক্ষক নিহত, সড়ক অবরোধ

জয়নাল ফরাজী

খুলনার সড়কে মৃত্যু থামছেই না। যত দিন যাচ্ছে, ‘মৃত্যুর মিছিল’ চলছেই। এবার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সরকারি বিএল কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কিশোর কুমার পাল। এ নিয়ে গত ৪৮ ঘন্টারও কম সময়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে ফুলতলা উপজেলার দামোদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে কিশোর কুমার পাল (৫১) রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এসময় একটি ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

সরকারি বিএল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কে এম আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আজকে কিশোর কুমার পাল কলেজে আসেননি। বেশ কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় তার এক পা ভেঙ্গে গেছিলো। সেই থেকে পায়ে সমস্যা ছিলো। হাঁটতে কিছুটা জড়তা ছিলো। তিনি মানসিকভাবেও কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। আজ কিশোর রাস্তার পার হওয়ার সময় ট্রাক চাপায় নিহত হন।’

নিহত কিশোর কুমার পাল বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গিলেতলা বাজার এলাকার মৃত কিরণ চন্দ্র পালের ছেলে। তিনি খুলনা মহানগরীর ট্যাঙ্ক রোডে বসবাস করতেন। ফুলতলা উপজেলার দামোদর পূর্বপাড়ায় নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজ শিক্ষক কিশোর কুমার পাল নিহতের প্রতিবাদে খুলনা-যশোর মহাসড়কের দৌলতপুরে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিএল কলেজের ছাত্ররা। এর ফলে ওই রোডের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এ দুর্ঘটনার দাগ মুছতে না মুছতেই এদিন সন্ধ্যায় ফুলতলায় মোটর সাইকেলের ধাক্কায় নিহত হন স্টার জুট মিলের শ্রমিক লুৎফর। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় ফুলতলার ১৪ মাইল এলাকায় সুপার জুট মিলের সম্মুখে রাস্তা পারাপারের সময় নওয়াপাড়াগামী অজ্ঞাত মোটর সাইকেলের ধাক্কায় সুপার জুট মিলের কর্মচারী লুৎফর রহমান সরদার (৬৮) গুরুতর আহত হয়। তাকে দ্রুত হাসাপাতালে নেওয়ার পথেই সে মারা যায়। মোটর সাইকেল আরোহী ধাক্কা দিয়েই দ্রুত সটকে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, লুৎফর রহমান সরদার সুপার জুট মিলের কাজ সেরে আলকা গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় রাস্তা পার হতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ হাসপাতালে ছিল। সে আলকা গ্রামের মৃত মোকতার সরদারের পুত্র বলে জানা যায়।

মঙ্গলবার দুপুরে আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায় নগরীর বয়রা এলাকায় আহত হন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক, দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকার সম্পাদক ও কেইউজে’র সভাপতি প্রার্থী মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ। দুর্ঘটনায় তার বাম হাতের হাড় ভেঙ্গে যায়। তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে ডাক্তারে পরামর্শে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।

এর আগে, গত রবিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১১টায় নগরীর লবণচরা থানাধীন রূপসা বাইপাস সড়কের খাজুর বাগান নামক স্থানে ট্রাক চাপায় প্রাইভেটকারের পাঁচ আরোহী নিহত হন। যারা প্রত্যেকে গোপালগঞ্জের ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা। নিহতরা হলেন- গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব হাসান বাবু গোপালগঞ্জ সদর থানা যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. সাদিকুল আলম সাদিক, উপজেলা ছাত্রলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অনিমুল গাজী, জেলা ছাত্রলীগের উপ-ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক অলিদ মাহমুদ উৎস ও সহ-সম্পাদক সাজু আহমেদ।

গত সোমবার (১১ ফেব্র“য়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা-খুলনা সড়কের ডুমুরিয়ার চুকনগরের চাকুন্দিয়া এলাকায় পিকনিকের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে খাদে পড়ে একজন ছাত্রী নিহত হয়। নিহত মেঘলা যশোরের শ্যামনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। এ দুর্ঘটনায় আহত হয় আরও ৩০ জন শিক্ষার্থী। ফলে গত ২ দিনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় খুলনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো আটে।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র জেলা সাধারণ সম্পাদক এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনারোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উদ্যোগেকে স্বাগত জানাই। কিন্তু সেই আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে পূর্বের ন্যায় সড়কে অনিয়ম এবং বিশৃঙ্খলা চলছে। এ কারণে সড়ক দুর্ঘটনা কমছে না। অবিলম্বে সড়ক নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এ  বাস্তবায়ন চাই। পাশাপাশি সড়কে যে চাঁদাবাজি এবং যে ধরণের নৈরাজ্য আছে তা বন্ধ করতে হবে। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন হতে এবং ট্রাফিক পুলিশকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.