খুলনায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানসূচি

থ্য বিবরণী

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৯ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচির আলোকে  খুলনায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

২১ ফেব্রুয়ারি  দিবসের শুরুতে (০০.০১টায়) শহীদ হাদিস পার্কে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, অন্যান্য দপ্তর ও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনার মাধ্যমে শহীদ দিবসরে কর্মসূচির শুভ সূচনা হবে। ভোর ছয়টায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, সকল বেসরকারি ভবনে সঠিক নিয়মে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং সূর্যাস্তের সাথে সাথে পতাকা নামানো হবে। জাতীয় পতাকা নির্ধারিত মাপ ও রং এবং মানসম্পন্ন হতে হবে।  বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংগঠন, সাংস্কৃতিক জোট ও ব্যক্তি পর্যায়ে প্রভাত ফেরীর আয়োজন করা হবে।

ঐদিন সকাল নয়টায় নগরভবনে সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বাদ জোহর বা সুবিধামত সময়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বাদ জোহর খুলনা কালেক্টরেট জামে মসজিদসহ সকল মসজিদে শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া কামনা এবং সুবিধামত সময়ে মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপসনালয়ে অনুরূপ বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।

বিকেল চারটায় ভাষা আন্দোলনে অমর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে বয়রাস্থ বিভাগীয় গণ-গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত অমর একুশের বইমেলা প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

শহীদ হাদিস পার্কে এবং খুলনা জাতিসংঘ শিশু পার্কে ঐদিন সন্ধ্যায় খুলনা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ভ্রাম্যমান চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও একুশের পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে স্থানীয় পত্রিকাগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে বাংলা বর্ণমালা সম্বলিত ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হবে।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সুবিধামত সময়ে ও দিনে (২০ ফেব্রুয়ারির পূর্বে) খুলনা জিলা স্কুলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘ শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা আন্দোলনে খুলনার অবদান’ এর তাৎপর্য তুলে ধরে যথাক্রমে ৩টি বিভাগে অনুর্ধ্ব ৩০০ শব্দ এবং ৫০০ শব্দের রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ২১ ফেব্রুয়ারি আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হবে।

সুবিধামত সময়ে স্কুল-কলেজে বই পাঠ, স্বরচিত ছড়া ও কবিতা প্রতিযোগিতা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে একুশে সংক্রান্ত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।  সুবিধামত তারিখ ও সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে নিজস্ব কার্যালয়ে  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের মধ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও  দেশ-জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। ঐদিন সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে গণগ্রস্থাগার প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। ১৯  ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় শিশু একাডেমী শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। ১৭ ফেব্রুয়ারি সবিধামত সময়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে  এবং ২১ ফেব্রুয়ারি বই মেলার অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.