খুলনায় বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ

দ: প্রতিবেদক

খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২০১৯ পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। একুশের প্রথম প্রহরে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে শহীদ মিনারে খুলনা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ও মহানগর কমান্ড, কেসিসি’র মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও কেএমপি কমিশনার, সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, চেম্বার অব কমার্স, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ, খুলনা প্রেসক্লাবসহ পেশাজীবী সংগঠন এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনার মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন।

সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধাসরকারি,স্বায়িত্বশাষিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ভবন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। ভোর হতেই প্রভাতফেরী সহযোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অন্যান্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে।

বাদ জোহর কালেক্টরেট জামে মসজিদসহ সকল মসজিদে শহীদদের রূহের মাগফিরাত ও দেশের কল্যাণ, শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে অনুরূপ বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

বিকেলে এ উপলক্ষে বয়রাস্থ বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার চত্বরে খুলনা জেলা প্রশাসন অয়োজিত আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় (সার্বিক) কমিশনার মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, কেএমপি’র ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম, উপভূমি সংস্কার কমিশনার রইস উদ্দিন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক শরিফুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ইশরাত জাহান এবং মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর কবীর। খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা, শিক্ষক সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনে রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ হাদিস পার্ক এবং জাতিসংঘ পার্কে সন্ধ্যায় খুলনা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ভ্রাম্যমান চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। বাংলাদেশ বেতার খুলনা দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। উপজেলা পর্যায়েও অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন : খুলনা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক গত বৃহস্পতিবার যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৯ পালিত হয়েছে। দিবসের প্রথম প্রহরে ১২ টা ১ মিনিটে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কস্থ শহীদ মিনারে পুষ্প স্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে নিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

দিবসটি পালন উপলক্ষে সকাল ৯টায় নগর ভবনে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সিটি মেয়র অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। পুরস্কার বিতরণকালে তিনি ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, রক্ত দিয়ে আমরা ভাষার অধিকার ও স্বাধীনতা অর্জন করেছি। বায়ান্নর শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাভাষা আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা লাভ করেছে। ফলে আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিও বিশ্ব আঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছে। অমর একুশের চেতনা আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিশ্ব দরবারে তারা মাথা উচু করে দাড়াতে উজ্জীবিত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কেসিসি’র সচিব মো: আজমুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন প্যানেল মেয়র মো: আলী আকবর টিপু, কাউন্সিলর মো: মনিরুজ্জামান, মুন্সী আব্দুল ওয়াদুদ, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পারভিন আক্তার, মাহমুদা বেগম ও মাজেদা খাতুন। অন্যান্যের মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খান মাসুম বিল্লাহ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এস কে এম তাছাদুজ্জামান সহ কেসিসি’র কর্মকর্তা, কর্মচারী সহ নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ৯টায় সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক নগরীর গোয়ালখালী কবরস্থানে শহীদ হাদিসুর রহমান-এর কবর জিয়ারত ও মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।

সকাল ১০টায় সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন উপলক্ষে কেসিসি পরিচালিত খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ও কেসিসি উইমেন্স কলেজ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ তৌহিদুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় :  যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৬ টায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলনের পর উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রভাতফেরি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পৌঁছায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সেখানে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এ সময় ট্রেজারার, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট, বিভাগীয় প্রধানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর পরপরই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল, ডিসিপ্লিনসমূহ, আবাসিক হলসমূহ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, অফিসার্স কল্যাণ পরিষদ ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, এ্যালামনাই এসোসিয়েশন এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রসহ আশপাশের স্কুল-কলেজের শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রী ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার চত্বরে মুক্তমঞ্চে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. ফিরোজ আহমদের সভাপতিত্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান, ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে উপাচার্য আইন ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে মুদ্রিত একুশের স্মরণিকা দেয়াল ভাঙ্গার গান এর তৃতীয় সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দেশাত্ববোধক গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এছাড়া এবার জার্নালিজম ক্লাবের উদ্যোগে ব্যাতিক্রমধর্মী ‘শুদ্ধ বাংলা লিখন প্রতিযোগিতা-২০১৯’ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ট্রেজারার এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করে এটাকে একটি ভালো উদ্যোগ বলে অভিহিত করে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বাদ যোহর ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় ধর্মীয় উপাসনালয়ে দোয়া/প্রার্থনা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিয় শহিদ মিনার চত্বরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন।

খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় : খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৯ পালিত হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে ২০ ফেব্রæয়ারি বুধবার রাত ০৯টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২ঃ০১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন। এরপর শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল ৯টায় স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন। সকাল ১০ঃ৩০টায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসর ড. শিবেন্দ্র শেখর শিকদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন ও ইইই অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমাদ। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. পিন্টু চন্দ্র শীল, রেজিস্ট্রার জি এম শহিদুল আলম, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ রাফিজুল ইসলাম, অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌঃ মোঃ আনিছুর রহমান ভূঞা, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ মামুনুর রশীদ জুয়েল, বঙ্গবন্ধু কর্মচারী পরিষদের সভাপতি সোনালী বিনতে শরীফ। এছাড়া, আসর বাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শহীদদের রুহের মাগফেরাত ও দেশের শান্তি, কল্যাণ কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

খুলনা প্রেসক্লাব : খুলনা প্রেসক্লাবের আয়োজনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৯ যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচান সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম হাবিব। সভা পরিচালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাহেব আলী। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ওয়াদুদুর রহমান পান্না, ক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ রাশিদুল ইসলাম ও মো: তরিকুল ইসলাম,  সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুবীর কুমার রায়, সাবেক সদস্য সচিব মোঃ মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, কোষাধ্যক্ষ রফিউল ইসলাম টুটুল, সহকারী সম্পাদক শেখ মাহমুদ হাসান সোহেল ও মাহবুবুর রহমান মুন্না, নির্বাহী সদস্য সোহরাব হোসেন, মোঃ আনিসুজ্জামান, সোহেল মাহমুদ,  এস এম ফরিদ রানা ও কৌশিক দে, ক্লাব সদস্য শেখ দিদারুল আলম, মোঃ মোজাম্মেল হক হাওলাদার, মোঃ হুমায়ুন কবীর, মো: শাহ আলম, দেবনাথ রনজিৎ কুমার, আলমগীর হান্নান, মো: সাঈয়েদুজ্জামান সম্রাট, এইচ এম আলাউদ্দিন,ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলু, মো: আবু সাঈদ, এস এম নূর হাসান জনি, মোঃ মাছুম বিল্লাহ, ইউজার সদস্য শরিফুল ইসলাম বনি, জয়নাল ফরাজী, শশাংক শেখর স্বর্ণকার প্রমুখ।

আলোচনা সভার শুরুতে ৫২’র ভাষা শহীদ, পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ এবং রাজধানীর চকবাজারে অগ্নি দগ্ধ হয়ে নিহতদের শ্রদ্ধায় দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এছাড়া সভাশেষে তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ হাদিস পার্কের শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে ভাষা শহীদরে প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান খুলনা প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ।

খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন : ২১ শে ফেব্র“য়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে) এর উদ্যোগে খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভার শুরুতে ৫২’র ভাষা শহীদ, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের বিদায়ী সভাপতি আলহাজ্ব এস এম জাহিদ হোসেন। সভা পরিচালনা করেন ইউনিয়নের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নে সাবেক সভাপতি ওয়াদুদুর রহমান পান্না, বীরমুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, নবনির্বাচিত সভাপতি মুন্সি মো. মাহবুব আলম সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সাঈয়েদুজ্জামান সম্রাট, সিনিয়র সাংবাদিক অমিয় কুমার পাল, মোজাম্মেল হক হাওলাদার, সুবীর রায়, মলি­ক সুধাংশু, আব্দুল হালিম, বিএফইউজে’র নির্বাহী সদস্য এস এম ফরিদ রানা, নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সম্পাদক নেয়ামুল হোসেন কচি, কোষাধ্যক্ষ অভিজিৎ পাল, দপ্তর সম্পাদক জয়নাল ফরাজী, প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নূর হাসান জনি, ইউনিয়নের সদস্য ওয়াহেদুজ্জামান বুলু, দেবনাথ রণজিৎ কুমার, দিলীপ বর্মন, সোহেল মাহমুদ, রীতা রানী দাস, শরিফুল ইসলাম বনি, শেখ জাহিদুল ইসলাম।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের নবনির্বাচিত নির্বাহী সদস্য বিমল সাহা, আল মাহমুদ প্রিন্স, সদস্য নাজমুল হাসান, শেখ মাহমুদ হাসান সোহেল, হেলাল মোল­া প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে বিদায়ী কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নবনির্বাচিত কমিটির নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ হাদিস পার্কের শহীদ মিনারে নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ন্যাপ ভাসানী খুলনা : শহীদ ভাষা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ন্যাপ-ভাসানী, খুলনা মহানগরের উদ্যোগে রাত ১২-০১ মিনিটে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শোভাযাত্রা সহকারে শহীদ মিনারে পুষ্প মাল্য অর্পণ করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি বেলা ১০:৩০টায় বয়রা ইসলামিয়া কলেজ রোডস্থ খুলনা মহানগর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ ওবায়দুল হোসেনের বাসভবনে তার সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন ন্যাপ ভাসানী কেন্দ্রীয় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খুলনা মহানগর সভাপতি শেখ ইকবাল আহমেদ, মহানগর  ভাইস পেসিডেন্ট আশিক-উস সালেহিন, মোঃ মাসুম মৃধা, সাধারণ সম্পাদক এস এম জিয়াউল করিম চন্দন, উপদেষ্টা শেখ ফজলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আলগীর হোসেন, নির্বাহী সদস্য শেখ রিজওয়ান রিজু, ১৪নং ওয়ার্ড সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রাহাদুল্লাহ, এবাদ আলী গাজী, শেখ নজরুল ইসলাম নিরোজ, ১৬নং ওয়ার্ড সভাপতি শেখ মনিরুল ইসলাম মনি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হানিফ খান শাওন, শেখ নাজমুল ইসলাম খান, ২০নং ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ আজিম হাওলাদার প্রমুখ।

খুলনা বিএমএ : ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা শাখার পক্ষ থেকে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ‘শহীদ হাদিস পার্কে’ শহীদ মিনারে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধানিবেদন করা হয়।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিএমএ’র সভাপতি ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম, খুলনা বিএমএ’র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. ধীরাজ মোহন বিশ্বাস, ডা. মোল্যা হারুন অর রশিদ, সাধারন সম্পাদক ডা. মোঃ মেহেদী নেওয়াজ, সাংস্কৃতি ও আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. পরিতোষ কুমার চৌধূরী, ডা. ডালিয়া আখতার,ডা. মোহাম্ম হাসান, ডা. হিমেল সাহা, ডা. বাপ্পারাজ দও, ডা. শহিদুল ইসলাম মুকুল প্রমূখ।

স্বাচিপ খুলনা : মহান শহীদ বিজয় দিবস-২০১৯ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ), খুলনা জেলা শাখার পক্ষ থেকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয় “শহীদ হাদিস পার্কের শহীদ মিনার স্মৃতি স্মম্ভে” সকাল ৭:৩০ মিনিটে খুলনায়।

এ সময় অন্যান্যদের উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) খুলনা জেলা শাখার সভাপতি ডা. এস.এম. সামছুল আহসান মাসুম, স্বাচিপ, খুলনা জেলা শাখার সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো: মেহেদী নেওয়াজ। স্বাচিপ খুলনা জেলা শাখার সহ-সভাপতি ডা. মোল্লা হারুন-অর-রশীদ ও ডা. মো: সালাউদ্দিন রহমতুল্ল্যা। এছাড়া অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন স্বাচিপ খুলনা শাখার প্রচার সম্পাদক ডা. মো: জিল্লুর রহমান তরুন, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ডা. অনল রায়, প্রফেসর ডা. পরিতোষ কুমার চৌধুরী, ডা. উৎপল কুমার চন্দ, ডা. ডালিয়া আখতার, ডা. হিমেল সাহা, ডা. বাপ্পা রাজ দত্ত, ডা. শিমুল চক্রবর্ত্তী, ডা. মোহাম্মদ হাসান সহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আরো অন্যান্য চিকিৎসকবৃন্দ।

জেলা ও নগর জাপা : মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টি খুলনা জেলা ও মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল রাত ১২:০১ মিনিটে শহীদ হাদিস পার্কের শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, ভোর ৬:১০ মিনিটে প্রভাতফেরী ও সন্ধ্যা ৬টায় ডাকবাংলাস্থ দলীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা জাপার সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু এবং পরিচালনা করেন জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক এম হাদিউজ জামান। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন জেলা জাপার যুগ্ম সম্পাদক শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, জি এম বাবুল, জাপা মহানগর সদস্য সচিব মোল্যা শওকত হোসেন বাবুল, শেখ সাদি, তোবারক হোসেন তপু, জেলা জাপা নেতা শাহাজান আলী সাজু, রহমত আলী খান, সুলতান মাহমুদ, ফরিদা ইয়াসমিন, মহানগর নেতা এস এম এরশাদুজ্জামান ডলার, প্রিন্স হোসেন কালু, মোল্যা সাইফুল ইসলাম, আফিফুজ্জামান শোভন, অধ্যাপক গাউসুল আজম, অপূর্ব দত্ত নেকু, হাসানুর রশীদ রাসেল, মোঃ জমির উদ্দিন, মোঃ সহিদ হাওলাদার, গাজী খোকন, মোঃ আলাউদ্দিন, ওদুদ মোড়ল, গাজী মোশাররফ হোসেন, মোঃ নূর ইসলাম ছোট্ট, মোঃ মিণ্টু খান প্রমুখ।

স্বাধীন সমাজকল্যাণ সংস্থা : মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বৃহস্পতিবার সকালে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশীর আংটিহারার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাধীন সমাজকল্যাণ সংস্থার সদস্যরা। দক্ষিণ বেদকাশী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন সমাজকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোঃ মামুন কবির, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন কবির, স্বাধীন সমাজকল্যাণ সংস্থার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান খোকা, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সমাজ সেবা সম্পাদক অসীম মন্ডল, সদস্য আসাদুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম, আহকামুল খোকন, মোঃ আবু রায়হান খান, মোজাম্মেল হক টিটু, হাসান, মাহিবুর, সজীব প্রমুখ।

নবারুণ সংসদ: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে নবারুণ সংসদ চত্বরে নবারুণ সংসদ পরিবার, এলাকাবাসী এবং শরৎ কুমারী দেবী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকাল ৭:৩০ মিনিটে প্রভাতফেরী, ৯:৩০ মিনিটে অনূর্ধ্ব ১০ বছর বয়সীদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বেলা ১০:৩০ মিনিটে রক্তের গ্রুপিং করা হয়। চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ৬০জন শিশু অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন বজলুর রশীদ ও এড. জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী এবং ‘সত্যজিৎ ঘোষ বিপ্লব স্মৃতি পরিষদে’র সহযোগিতায় ১৪৫ জনের রক্তের গ্রুপিং করা হয়। রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করেন ডাঃ সর্বজিত আনোয়ার কামাল বুলু, মেডিকেল অফিসার, রাইজিং সান নেটওয়ার্ক ও তার সহকর্মী সোহেল পারভেজ।

সমগ্র অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজী ওহিদুর রহমান টুকু, নির্বাহী সদস্য, নবারুণ সংসদ। প্রধান অতিথি ছিলেন শমসের আলী মিন্টু, কাউন্সিলর, ২৪নং ওয়ার্ড, কেসিসি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাঃ স্বপন কুমার হালদার, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, কেসিসি। চিত্রাংকন প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি। সার্বিক কর্মসূচি পরিচালনায় ছিলেন একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ কচি ও নবারুণ সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ নেওয়াজ টিপু।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.