খুলনায় উপজেলা নির্বাচন নিয়ে সরব আ’লীগ, নিশ্চুপ বিএনপি

জয়নাল ফরাজী
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই খুলনার নয়টি উপজেলা এলাকায় বইতে শুরু করেছে উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ফেব্র“য়ারির ৩ তারিখ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা দিয়েছে। মার্চের ৭ বা ৮ তারিখ থেকে পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী আর সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন দলীয় মনোনয়নের জন্য দৌড়ঝাঁপ করে ব্যস্ত কে কোথায় প্রার্থী হচ্ছেন। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের মাথা ব্যাথা থাকলেও শরিক দলগুলোকে তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। আর বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চিত্র এখন চুপচাপ নিরবতা। জাতীয় নির্বাচনের মতো ভরাডুবি হবে কি না এই ভেবে। তাই নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহ নেই তাদের।
সূত্র জানায়, খুলনার বটিয়াঘাটা, দাকোপ, রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া, ফুলতলা উপজেলায় আওয়ামী লীগ এবং পাইকগাছা, কয়রা, ডুমুরিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের চেয়ারম্যানরা দায়িত্ব পালন করছেন। এদের মধ্যে বটিয়াঘাটায় আওয়ামী লীগের আশরাফুল আলম খান, দাকোপে শেখ আবুল হোসেন, রূপসায় কামাল উদ্দিন বাদশা, তেরখাদায় সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, দিঘলিয়ায় খান নজরুল ইসলাম, ফুলতলায় আকরাম হোসেন। বিএনপির চেয়ারম্যানদের মধ্যে পাইকগাছায় স ম বাবর আলী, কয়রায় জামায়াতের আ খ ম তমিজ উদ্দিন দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া ডুমুরিয়ার চেয়ারম্যান খান আলী মুনসুর সম্প্রতি ইন্তেকাল করেছেন।
ইতিমধ্যে জেলার নয়টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবখানেই চলছে নির্বাচনী আলাপ। আর সম্ভাব্য প্রার্থীরা নেমেছেন গণসংযোগে। আর পড়া মহল­ার চায়ের দোকানে অবস্থান নেওয়া ভোটাররা আলোচনা করছেন তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর হয়ে উঠলেও বিএনপির বেলায় দেখা গেছে নেতাকর্মীরা চুপচাপ নিরবতায় রয়েছেন।
খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা জানান, দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিবে কি না। তাই এখন দলীয় নেতাকর্মীরা চুপচাপ রয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত এলেই নেতাকর্মীরা ভাবতে শুরু করবে নির্বাচন নিয়ে। তার আগে কিছুই বলা সম্ভব না।
খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান জামাল জানান, আওয়ামী লীগ নির্বাচনমুখী একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দল। স্বাভাবিক কারণে এ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা অনেক বেশি। বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.