February 26, 2024
আঞ্চলিকলেটেস্টশীর্ষ সংবাদ

খুলনার ৩৪ ইউনিয়নের ২১টিতে চেয়ারম্যান পদে নৌকার জয়

৮টিতে আ’লীগের বিদ্রোহী ও ৪টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী

দ. প্রতিবেদক
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে খুলনার ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩৪টি ইউনিয়নে সোমবার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ ভোটগ্রহণ চলে। ৩৪টি ইউনিয়নের মধ্যে দুটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোট দেন ভোটাররা। ইউনিয়ন দুটি হলো -বটিয়াঘাটার গঙ্গারামপুর ও দিঘলিয়ার বারাকপুর ইউনিয়ন।
গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৩৩টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের বেসরকারি ফল পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ২১টিতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। আর ৮টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও ৪টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি একটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ফলাফল স্থগিত রয়েছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জিয়াউর রহমান, বাগালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মোঃ আবদুস সামাদ গাজী, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের শাহনেওয়াজ শিকারী, মহারাজপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মোঃ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মোঃ নুরুল ইসলাম সরদার, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আছের আলী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
দাকোপ উপজেলার পানখালী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র সাব্বির আহমেদ, দাকোপ সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিনয় কৃষ্ণ রায়, কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মিহির মন্ডল, সুতারখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মাসুম আলী ফকির, কামারখোলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের পঞ্চানন কুমার মন্ডল, তিলডাঙ্গা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র জালাল উদ্দিন গাজী, বাজুয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মানস কুমার রায়, বানিশান্তা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সুদেব কুমার রায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে দাকোপ উপজেলার লাউডোব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের শেখ যুবরাজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।


বটিয়াঘাটা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র আসলাম হালদার, বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী শেখ মোঃ আসাবুর রহমান, আমীরপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জি এম মিলন নির্বাচিত হয়েছেন।


দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মোঃ মফিজুল ইসলাম, বারাকপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের গাজী জাকির হোসেন, দিঘলিয়া সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মোঃ হায়দার আলী মোড়ল, সেনহাটী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী জিয়া গাজী, আড়ংঘাটা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র এস এম ফরিদ আকতার, যোগীপোল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মোঃ সাজ্জাদুর রহমান লিংকন নির্বাচিত হয়েছেন।
পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মোঃ আবদুল মান্নান গাজী, রাড়ুলী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ, গড়ইখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আবদুস সালাম, গদাইপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের শেখ জিয়াদুল ইসলাম জিয়া, চাঁদখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী শাহজাদা মোঃ আবু ইলিয়াস, দেলুটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রিপন কুমার মন্ডল, লতা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কাজল কান্তি বিশ্বাস, লস্কর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কে এম আরিফুজ্জামান, কপিলমুনি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মোঃ কওছার আলী জোয়াদ্দার নির্বাচিত হয়েছেন।


কয়রা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ হযরত আলী জানান, ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ায় কয়রা সদর ইউনিয়নের ৪নং কয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে কারণে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ৩৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন ১৫৬ জন। ৩০৬টি ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৪৮১ জন। সংরক্ষিত সদস্য পদে প্রার্থী ৪৬৪ জন। ইউনিয়নগুলোতে এবারে মোট ভোটার ৬ লাখ ৪০ হাজার ৭৭৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৮৩ জন ও পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ১৭ হাজার ৩৯৬ জন। এবারের ইউপি নির্বাচনে দুটি ইউনিয়নে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে এবং ৩২টিতে ব্যালটে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিন/ জে এফ জয়

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *