February 25, 2024
আঞ্চলিকলেটেস্ট

খুলনার ২৬টি নদী-খাল দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু

যতদিন অবৈধ স্থাপনা থাকবে ততদিন অভিযান চলবে : সিটি মেয়র

 

দ: প্রতিবেদক

ময়ূর নদসহ খুলনার ২৬টি নদী-খাল দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ও খুলনা জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে ময়ূর নদের বুড়ো মৌলভীর দরগা এলাকা থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

এসময় দু’টি স্কেভেটর দিয়ে নদীর তীরে থাকা অবৈধ স্থাপনা, টিন সেড ও সেমি পাকা স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন ভবনের বর্ধিত অংশ বাড়ির মালিকদের স্বউদ্যোগে ভেঙ্গে ফেলতে দেখা যায়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এর মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, কেসিসির প্যানেল মেয়র-১ আমিনুল ইসলাম মুন্না, প্যানেল মেয়র-২ আলী আকবর টিপু, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ সময় সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ময়ূর নদ ও ২৬টি খালে যতদিন অবৈধ স্থাপনা থাকবে ততদিন উচ্ছেদ অভিযান চলবে। এর আগে ময়ূর নদ ও সংলগ্ন ২৬টি খাল এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে মাইকিং করেছে জেলা প্রশাসন।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, ময়ূর নদ ও ২৬টি খালে যৌথ জরিপ চালায় জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সরকারের ৪টি সংস্থা। এর মধ্যে সেখানে ৪৬০ জন দখলদারের তালিকা তৈরি করা হয়। নদী ও খাল দখল করে তৈরি স্থাপনার সংখ্যা ৩৮২টি। এর মধ্যে ময়ূর নদে ৭৯ জন ব্যক্তি ৬৩টি অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছেন বলে জরিপে উঠে আসে।

মহানগরীসহ আশপাশের খাল ও নদী বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে দুই পাড় দখল করা হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি বাধাগ্রস্ত হয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় সড়ক ও ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে পানি জমে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক। যে কারণে ময়ূর নদ ও ২৬টি খাল দখলমুক্ত করতে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে।

জানা যায়, প্রভাবশালীরা স্রোতহীন ময়ূর নদতে খুব সহজেই পাটা ও বাঁধ দিয়ে প্রতিদিনই দখল কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। পৈত্রিক সম্পত্তির মতো গাছপালা লাগানো ও চাষাবাদসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা, এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও  পাকা বাড়ি-ঘর ভবন নির্মাণ করেছিলেনও অনেকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই যুগ আগেও ময়ূর নদে পালতোলা নৌকা চলাচল করতো। অনেক জেলে পরিবারের জীবিকার মূল উপজীব্য ছিল এ নদী। গোসল ও তৈজসপত্র ধোয়ার কাজে নদীর পানি ব্যবহার করতো। অথচ এখন দখল ও দূষণে আর ব্যবহারের উপযোগী নেই। ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ময়ূর নদর সঙ্গে আগে রূপসা নদীর সরাসরি সংযোগ ছিল। দখলে নদী হারিয়েছে নিজস্বতা। ময়ূর নদকে নাব্য করতে ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন। তাতে পুরোপুরি দখলমুক্ত হয়নি নগরীর খালগুলো।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *