খুবি’র আন্দোলনে নেই সাধারণ শিক্ষার্থী, জনমনে নানা প্রশ্ন

দ: প্রতিবেদক : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাজানো- গোছানো ক্যাম্পাস। একই সাথে চমৎকার একাডেমিক পরিবেশ। প্রত্যেক বছর পহেলা জানুয়ারি ক্লাস শুরু, আর ৩১ ডিসেম্বর ফলাফল প্রকাশ। নেই সেশনজট, নেই সন্ত্রাস, নেই ছাত্ররাজনীতি। বছর ধরে নানা উৎসব-আয়োজনে, সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে, খেলাধূলা-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর নানামুখী গবেষণায় ব্যস্ত খুলনা বিশ্ববিদালয় ক্যাম্পাস। জাতীয় ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অর্জন, সুনাম ও ভাবমূর্তী যখন উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হচ্ছে, অবকাঠামো উন্নয়নে বর্তমান সরকার যখন প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করছে, ক্যাম্পাসে যখন মুক্তিযুদ্ধের আবহ প্রগাঢ় হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী মুজিব বর্ষে যখন প্রথম এবং দেশের মধ্যে সবচেয়ে উচু ও প্রশস্ত ম্যুরাল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত হলো এবং স্বয়ং রাষ্ট্রপতি তা উদ্বোধন করলেন, যখন সফল ৬ষ্ঠ সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয় অন্য উচ্চতায় পৌছালো, তখনই অকষ্যাৎ কিছু শিক্ষার্থীর কয়েক দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন। সেই আন্দোলনের এতোটাই তাড়া যে, শীতকালীন ছুটির পর বিশ্ববিদ্যালয় খুলেই তীব্রতর। মাত্র দুই দিনের মধ্যেই লাগাও তালা। এ যেনো সাজানো-গোছানো ক্যাম্পাস মুহূর্তে ধুলিষৎ করার নীল নকশা। একাডেমিক প্রধান ডিনদের সাথে কথা বলা যাবে না, তারা যেন অচ্যুত, তারা যেনো তাদের শিক্ষক নয়, তাই পৃষ্ঠ প্রদর্শন। হায় শ্লোগানের ভাষা। যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এতো গর্ব, এতো অহংবোধ, যার শিক্ষার্থীদের এতোটা প্রশংসা, তাদের মুখে এ ভাষা তো শোভা পায় না। তারা তো লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি করে না। তা হলে এ অশোভন ভাষা কোথা থেকে এলো। এর নেপথ্য কী? এমন অনেক প্রশ্ন ভীড় করছে এখন খুলনা বাসীর মনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দাবি-দাওয়া থাকতে পারে- এটা স্বাভাবিক। তাই বলে নিয়মতান্ত্রিক পথে না হেটে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে অস্থিতিশীল করে, তালা মেরে অবরুদ্ধ করে সন্ত্রাস সৃষ্টি, মেয়েদের হলে মাইক নিয়ে আন্দোলনে আসার জন্য চাপ ও আতংক সৃষ্টি-এ কোন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। উত্থাপিত দাবি যদি বাস্তবায়নে আর পাঁচ-দশদিন সময় নেয় কমিটি, কর্তৃপক্ষ, এমন কি একমাসও তা হলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মহাক্ষতি হয়ে যাবে? এমন প্রশ্ন সঙ্গত কারণেই উঠছে। আর তাই তলিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং খুলনার আপামর মানুষ, দলমত নির্বিশেষে রাজনীতিক, সমাজসেবি, নানা সংগঠন। কারণ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের আবেগের জায়গা, তাদের গর্বের জায়গা। তাই গোটা ৩০-৪০জন শিক্ষার্থী আর তাদের নেপথ্য মাত্র ৩-৪জন শিকক্ষের এহেন ভূমিকা প্রচন্ড প্রশ্নবিদ্ধ। আসলে ওই কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীর দাবি আদায়ে সত্যিকার অর্থে যৌক্তিকতা কতোটুক না নেপথ্য অন্য কিছু।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক নাজিম উদ্দিন পায়েল। যিনি একজন খ্যাতনামা স্থপতি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। তার কাছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও কিছু বিষয় জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, শিক্ষক হিসেবে, প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে অবশ্যই আমি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গর্ব করি। এ অবস্থানে পৌঁছাতে আমাদের দীর্ঘ সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ত্যাগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অনেক অবদান রয়েছে এই পরিবেশ তৈরিতে। তারাই চাপ দিয়ে কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করেছে কিছু অধ্যাদেশ করতে। তার মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের রাজনীতিক সংগঠন না করার অধ্যাদেশ অন্যতম ঘটনা। এ কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় আজও সুস্থ আছে। সুনাম আছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের কোনো যৌক্তিক সমস্যা থাকলে সে বিষয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দাবি করা যেতে পারে। একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি পূরণ হোক সেটাও আমরা চাই। কিন্তু এটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করাটা মোটেই কাম্য নয়। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরতে হবে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে এগাতে হবে। যেহেতু খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডিনদের নিয়ে একটি কমিটি করেছে তাই কমিটিকে সময় দিতে হবে। তারা কী রিপোর্ট দেয় তা দেখতে হবে। বড় কথা আবেগ তাড়িত হয়ে বা কারো প্রলুদ্ধে যেনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আর শিক্ষক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব যেনো আমরা নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার না করি বা তাদের ক্ষতি না করি। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে অনেক কিছুই পাওয়া যাবে, হয়েতো তার জন্য সময় লাগতে পারে। মনে রাখতে হবে রোম নগরী এক দিনেই গড়ে ওঠেনি।
(আগামীকাল পড়ুন এ ব্যাপারে আরও সক্ষাতকার)

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.