কেশবপুরে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের দু’পাশের ঝোপ-জঙ্গল অপসারণ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
কেশবপুরে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের দু’পাশের ঝোপ-জঙ্গল অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে একদল যুবক। জানা গেছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কটি একটি ব্যস্ততম সড়ক। দু’টি গাড়ী ক্রসিং করলে ঝোপ-জঙ্গলের কারনে রাস্তার পাশে হাটার জায়গা থাকেনা। স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছেলেমেয়েরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রধান সড়কের উপর দিয়ে চলাচল করে থাকেন। মাঝে মধ্যে ছোট ছোট যানবাহন ও পথচারিরা খুব বিপাকে পড়েন। প্রতি বছরই এ সড়কে দুর্ঘটনায় বহু লোক প্রাণ হারান।
২০০৭ সালে স্কুল থেকে বাড়ী ফেরাত পথে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের তালতলা নামক স্থানে বাসের চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায় দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী মুন্নি খাতুন (৭)। ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর স্কুল পারাপারের সময় যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের আলতাপোল চারের মাথা এলাকার ২য় শ্রেণীর ছাত্রী মুক্তা খাতুন বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ২০১৮সালের ২০ ডিসেম্বর একই ভাবে রাস্তা পারা পারের সময় সুরাইয়া খাতুন (৭) বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। শিক্ষার্থীদের করুন এ মৃত্যুর ঘটনা ওই এলাকার সাধাণ মানুষের বিবেককে ব্যাপকভাবে নাড়া দেয়। এ উপলদ্ধি থেকে এলাকার যুবকরা সিদ্ধান্ত নেন, এভাবে আর কোন প্রাণকে অকালে ঝরতে দেবেন না। এরপর এলাকার যুবক চাকুরিজীবী জি.এম. মনিরুজ্জামান, মসজিদের ঈমাম হাফেজ মোঃ রবিউল ইসলাম প্রায় ২৫জন যুবককে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাস্তার দু’পাশের ঝোপ-জঙ্গল পরিস্কার করার উদ্যোগ নেয়। প্রতি শুক্রবারে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক দূর্ঘটনারোধে ঝোপ-জঙ্গল পরিস্কার করে হাঁটাপথ তৈরীর কাজ করেন।
১৫ ফেব্রæয়ারী সকালে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক দুর্ঘটনারোধে ঝোপ-জঙ্গল পরিস্কার করে হাঁটাপথ তৈরীর কাজ পরিদর্শন কালে তাঁদের সকল কাজের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করেন কেশবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সম্ভাব্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সাঈদুর রহমান সাঈদ।
এ সময় স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেন এলাকার যুবক চাকুরিজীবী জি.এম. মনিরুজ্জামান, মসজিদের ঈমাম হাফেজ রবিউল ইসলাম, ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান, ইউসুফ আলী টিটু, ডাক্তার বাবলা, সাহিত্যিক রুবেল, সোহেল, কবীর, মোস্তফা, শিক্ষার্থী ফিরোজ, রেজাউল হোসেন, কৃষক আব্দুস সালাম, সোহেল, আব্দুল আজিজসহ ২৫জন যুবক। শুধু রাস্তার দু’পাশ পরিষ্কার নয়, এলাকার বাল্যবিবাহরোধ, জঙ্গীবাদ নির্মূল, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, স্বেচ্ছায় রক্তদান কেন্দ্র করারও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। পর্যায়ক্রমে কেশবপুর উপজেলা ব্যাপি ১১টি ইউনিয়নে সড়ক দূর্ঘটনারোধে জনসচেতনতামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.