February 21, 2024
আঞ্চলিক

কপিলমুনির পার্শ্ববর্তী এলাকা সমূহে সুপেয় পানির তীব্র সংকট

জি এম এমদাদ, কপিলমুনি

কপিলমুনিসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সুষ্ঠ পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার অভাবে লবনাক্ততার পাশাপাশি আর্সেনিক ও দুষনক্রিয়ার কারণে অত্র এলাকায় বিশুদ্ধ পানির উৎস ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কপিলমুনির তালতলা, প্রতাপকাটি, নাবা, ভৈরবঘাটা, কাজিমুছা ও আগড়ঘাটার অনেক এলাকায় সুপেয় খাবার পানি পাওয়া রীতিমত দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব এলাকার মহিলারা ২/৩ কিঃমিঃ এরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে খাবার পানি সংগ্রহ করে আসছে। আর বর্ষা মৌসুমে পানি সংগ্রহের জন্য অনেক সময় কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দিয়ে অতি কষ্টে পানি সংগ্রহ করেন তারা। একই অবস্থায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে হরিঢালী, কপিলমুনি ও গদাইপুর কিছুটা লবনমুক্ত। বাকী এলাকা সমুহে লবন পানি থাকে বছরের ৬মাস। উপকূল এলাকার নদ নদীতে বছরের ৬মাস লবন পানির প্রবাহ চলে আর ৬মাস মিষ্টি পানির প্রবাহ চলতে থাকে। ফলে লবনাক্ততার ক্রিয়া কাটতে সময় লাগে আরও ৩ মাস। মোটের উপর বছরে ৯ মাস লবনাক্ততা থাকায় ভু-গর্ভস্ত মিষ্টি পানি ধীরে ধীরে লবন পানিতে পরিণত হয়। শুধু লোনা পানিই না, ভুগর্ভস্থ পানিতে অতিমাত্রায় আর্সেনিক থাকে। উপকুলীয় এলাকার বৃহৎ অংশে লবনপানি ও স্বল্প অংশে মাত্রতিরিক্ত আর্সেনিক এর ফলে অত্র এলাকার সিংহভাগ মানুষ বাধ্য হয়ে এখন বোতলজাত ফিল্টার পানি ক্রয় করে ব্যবহার করছেন। সে ক্ষেত্রেও তা অধিক মুনাফা লুটে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। আর বিশুদ্ধ পানির অভাবে এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠি অর্সেনিকসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে ভুগে থাকে। তথ্য জরিপ মতে কপিলমুনিসহ উপজেলায় জনসংখ্যার তুলনায় গভীর নলকুপের সংখ্যা খুবই অপ্রতুল। তাছাড়া প্রত্যেক অগভীর নলক‚পে পানির সুফল নেই। সবখানেই আর্সেনিক দুষণে দুষিত।

হরিঢালী গ্রামের আমীর শেখ বলেন, ‘আমাদের এখানে সুপেয় পানির সংকট আছে, অনেক টিউব অয়েলের পানিতে আসের্নিক থাকায় মানুষ সেটা পান করতে পারে না। ফলে বাধ্য হয়ে বোতলজাত পানি ক্রয় করে খেতে হচ্ছে।’

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সুত্রে জানাযায়, মিষ্টি পানি এলাকা ১নং হরিঢালী ইউনিয়নের ৬৮ শতাংশই অগভীর নলকুপের পানিতে আর্সেনিক দুষিত। ২নং কপিলমুনি ইউনিয়নের ৭৮ শতাংশ, ৩নং লতা ইউনিয়নে ৭৭ শতাংশ, ৪নং দেলুটি ইউনিয়নে ৪৬ শতাংশ, ৫নং সোলাদানা ইউনিয়নে ৭৯ শতাংশ, ৬নং লস্কর ইউনিয়নে ৭৬ শতাংশ, ৭নং গদাইপুর ইউনিয়নে ৪৮ শতাংশ, ৮নং রাড়–লি ইউনিয়নে ৬৮ শতাংশ, ৯নং চাঁদখালী ইউনিয়নে ৭২ শতাংশ এবং ১০নং গড়ইখালী ইউনিয়নে ৬৩ শতাংশ অগভীর নলকুপের পানি আর্সেনিক রয়েছে। একদিকে লবনাক্ততা ও অন্যদিকে আর্সেনিক ভয়াবহতায় উপজেলায় সুপেয় খাবার পানির তীব্র সংকট লেগেই রয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *