কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্লাস্টিকের দানব!

প্লাস্টিক বর্জ্যের হাত থেকে পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা এবং এসব বর্জ্য কীভাবে সাগর ও নদ-নদীর জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করছে, তা তুলে ধরতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশালাকৃতির একটা ভাস্কর্য।

সৈকতের সিগাল পয়েন্টের বালুচরে অনেকটা দানবের মতো দাঁড়িয়ে আছে ভাস্কর্যটি।

যা দেখতে ভিড় করছেন পর্যটকরা।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও এশিয়াটিক মার্কেটিং কমিউনিকেশন লিমিটেডের সহায়তায় এই প্লাস্টিকের দানব তৈরি করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

শনিবার প্লাস্টিকের ভাস্কর্যটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান।

পর্যটক ও স্থানীয়রা বলছেন, দানবরূপে তুলে ধরা এই ভাস্কর্য প্লাস্টিকের দূষণের বিরুদ্ধে মানুষের বিবেককে নাড়া দেবে।

গত এক মাস ধরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্লাস্টিক দূষণরোধে প্লাস্টিকের বিনিময়ে উপহার কর্মসূচি শুরু করে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। এই ক্যাম্পেইনে পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন প্লাস্টিক বর্জ্য কুড়িয়ে জমা দিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করেছেন। এসব প্লাস্টিক দেশের একমাত্র প্রবাল সমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলারে করে এনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আনা হয়। তারপর তৈরি করা হয় প্লাস্টিকের এই দানব।

আয়োজকরা বলছেন, ৩৪ ফুটের এই দানব আকৃতির ভাস্কর্যটি তৈরি করতে প্রয়োজন হয়েছে নানা ধরনের প্রায় ৫ টন প্লাস্টিক বর্জ্য, যা দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ। মানুষের মধ্যে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরতে এমন আয়োজন করা হয়েছে।

 

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহারের পর সেগুলো যত্রতত্র ফেলে দেওয়া হয়। এর ফলে সেগুলো সাগরে মিশে গিয়ে সেখানকার পরিবেশ-প্রতিবেশ দূষণ করছে। এ কারণে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি মানব দেহেও ক্ষতিকর প্রভাব দেখা দিচ্ছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্যে এই প্লাস্টিক বর্জ্যের দানব তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, কক্সবাজারে দিন দিন প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সাগরের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য। এখনই পরিকল্পিত উদ্যোগ নিয়ে প্লাস্টিক দূষণ রোধে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তাহলেই ভয়াবহ পরিণতি থেকে রক্ষা সম্ভব।

বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ও সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্যের দূষণের কারণে সেন্টমার্টিন ও সোনাদিয়া দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ এখন বিপন্ন। প্লাস্টিকের কুফল তুলে ধরা এ প্রদর্শনী প্রশংসার দাবি রাখে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *