February 25, 2024
আঞ্চলিক

ওসিসহ পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে জটিলতায় গৃহবধূ

খুলনা জিআরপি থানায় গণধর্ষণ

 

দ: প্রতিবেদক

খুলনায় রেলওয়ে (জিআরপি) থানায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ রেলওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে জটিলতায় পড়েছেন। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভিকটিম নারী খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ মামলার আবেদন করেন। দুপুরের পর মামলার শুনানী শেষে ধর্ষণের মামলার আবেদন গ্রহণ করেননি আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিচারক বলেছেন, এটা এই আদালতের এরিয়ার মধ্যে পড়ে না।

জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তিনটি আদালত রয়েছে খুলনায়। মন্ত্রণালয় থেকে এই তিনটি আদালতের দায়িত্ব বন্টন গেজেটে খুলনা জিআরপি থানার কথা উলে­খ নেই। গেজেটভুক্ত না হওয়ায় জিআরপি থানায় ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ রেলওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে জটিলতায় পড়েছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ দিলে এ বিষয়টি সামনে আসে।

ভিকটিমের পক্ষের আইনজীবী মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মো. মহিদুজ্জামানের আদালতে রবিবার সকালে জিআরপি থানার ওসি উছমান গনিসহ পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিকালে ওই আদালতে এ অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে জিআরপি থানা এই আদালতের বিচারভুক্ত গেজেটে না থাকায় অভিযোগটি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। বিচারক অভিযোগটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ পাঠিয়েছেন। এখন এ অভিযোগ নিয়ে ওই আদালতে শুনানি করতে হবে।

গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ বলেন, জিআরপি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার বিচার নিয়ে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি। দায়েরকৃত অভিযোগটি আদালত আমলে না নেওয়ায় তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, আইনের প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে। ফলে সাময়িক জটিলতার মধ্যে পড়লেও এর অবসান হবে এবং সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার হবে বলে তিনি আশাবাদী।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর স্পেশাল পিপি মো. ফরিদ আহমেদ জানান, ‘গেজেটে পাঁচটি থানা এলাকার মামলা বিচারের দায়িত্ব তার আদালতের ওপর ন্যস্ত আছে। ওই পাঁচটি থানার মধ্যে জিআরপি থানা নেই। এর ফলে আদালতের বিচারক সংশ্লিষ্ট আদালতে যাওয়ার পরমর্শ দিয়েছেন।’

উলে­খ্য, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে কমিউটার ট্রেনে খুলনায় আসার পথে রাতে ফুলতলা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই গৃহবধূকে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক করে। পরে ওই রাতে তাকে খুলনা জিআরপি থানা হাজতে রাখা হয়। পরদিন ৩ আগস্ট তার কাছ থেকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়ে একটি মামলা দিয়ে তাকে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ৪ আগস্ট আদালতে জামিন শুনানির জন্য তাকে হাজির করা হয়। এ সময় জিআরপি থানায় রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন ভিকটিম।

ভিকটিম বলেন, ওসি উছমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর আদালতের নির্দেশে ৫ আগস্ট খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এরপর পাকশি রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে ধর্ষণের অভিযোগ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন, কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ এবং সদস্যরা হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ.ম. কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম। এ কমিটি ৬ আগস্ট থেকে তদন্ত শুরু করেন। ৭ আগস্ট ওসি উছমান গণি এবং এসআই নাজমুলকে ক্লোজড করে পাকশি নেওয়া হয়। ৮ আগস্ট পাকশি ও ঢাকা থেকে গঠিত পথক দুটি তদন্ত টিমের সদস্যরা আদালতের অনুমতি নিয়ে জেল গেটে ভিকটিমের জবানবন্দি নেন। এরপর আদালতের নির্দেশে ৯ আগস্ট ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে জিআরপি থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এ মামলার তদন্তকারী অফিসার হিসেবে ফিরোজ আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাকশি থেকে গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হয়। ওই সাত দিন সময় শেষে ১৩ আগস্ট আরও ১৫ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করা হলে তা অনুমোদন হয়। এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৪ আগস্ট ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালতে ১৯ আগস্ট শুনানি শেষে ১০ দিনের মধ্যে ভিকটিমকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি দেয়।

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *