February 25, 2024
জাতীয়লেটেস্ট

এরশাদের আসনে সমঝোতার সম্ভাবনা আছে : ওবায়দুল

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি ‘চাইলে’ রংপুর-৩ আসনের উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রত্যাহারের বিষয়টি ‘বিবেচনা করা যেতে পারে’ বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল বৃহস্পতিবার বনানীর সেতু ভবনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনটি আওয়ামী লীগ এবারও জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেবে কি না তা জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা।

জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, রংপুরের আসনটি আসলে জোটের নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় পার্টির ছিল, এরশাদ সাহেবের আসন। এখন জাতীয় পার্টি সংসদে বিরোধী দলের আসনে। এখন তারা আলাদাভাবে নির্বাচনে আসলে আসতে পারে, সেটা তাদের ব্যাপার।

আর যদি জোটগতভাবে আমাদের কাছে আসনটি চায়ৃ তখন আমরা বিবেচনা করব। এই মুহূর্তে আমাদের প্রার্থী আছে। যতক্ষণ পর্যন্ত না আলোচনা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি এখনও এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করেনি, কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি।

তবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের তিন দিন আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রংপুর-৩ আসন নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার জন্য তারা ‘কিছুটা আলাপ আলোচনা’ করেছেন। তবে ঐকমত্য এখনও হয়নি। আমরা কিছু বিষয়ে আলোচনা করেছি, উনারাও বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত  হয়ত আর দুই চারদিন পরৃ প্রত্যাহারের দিনের মধ্যেই আমরা নিশ্চিত হব।

১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শফিকুল গণি স্বপন জেতার পর থেকে রংপুর আসনটি আর কখনও জাতীয় পার্টির হাতছাড়া হয়নি। সর্বশেষ দুটি নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ওই নির্বাচনে এরশাদের বিপরীতে কোনো প্রার্থী দেয়নি মহাজোটে তাদের শরিক আওয়ামী লীগ।

চলমান একাদশ সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এরশাদ গত ১৪ জুলাই মারা গেলে রংপুর-৩ আসনটি শূন্য হয়। ৫ অক্টোবর ভোটের দিন রেখে উপ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আওয়ামী লীগ আভাস দিয়েছিল, এবার তারা আর রংপুরে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে চায় না। উপ নির্বাচনের জন্য রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজুকে প্রার্থী করেছে তারা।

অন্যদিকে নানা নাটকীয়তার পর জাতীয় পার্টি তাদের প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের আসনে মনোনয়ন দিয়েছে তার ছেলে রাহগীর আল মাহী সাদকে (সাদ এরশাদ)। এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ পার্টির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আর বিএনপি প্রার্থী করেছে জিয়ার আমলের মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে রিটা রহমানকে, যিনি জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি শফিকুল গণি স্বপনের বোন।

 

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *