একুশ আমার অহংকার  

দ: প্রতিবেদক  

 আজ ৬ই ফেব্র“য়ারি। মহান ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্র“য়ারির ষষ্ঠ দিন। জিন্নাহর পূর্ববাংলা সফরের পর ১৯৪৮ সালের ৬ এপ্রিল পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক সভার যে অধিবেশন বসে তাতে প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে তাঁর চুক্তি লংঘন করে ভাষা বিষয়ক কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করা হয়। তাতে উলেখ করা হয়, পূর্ববাংলা প্রদেশে ইংরেজির স্থলে বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং পূর্ববাংলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার মাধ্যম হবে যথাসম্ভব বাংলা অথবা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশ স্কলারদের মাতৃভাষা। নাজিমুদ্দিন এই প্রস্তাব পেশ করার পর পরিষদে তুমুল বিরোধিতা ও হট্টগোল শুরু হলে জিন্নাহর মতামতের কথা উলেখ করে নাজিমুদ্দিন তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করেন।   

 

উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার কারণ: পকিস্তানের মত বহু ভাষাভাষী রাষ্ট্রের জনগনের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন সৃষ্টি করতে হলে যে কোনো একটি ভাষাকে সাধারণ ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা ছিল। ভারতবর্ষে মুঘল শাসনামলে মূলত সেনাবাহিনী সদস্যদের সাধারণ ভাষা হিসেবে হিন্দি, ফারসি ও আরবি ভাষার সংমিশ্রণে উর্দুর আবির্ভাব। উর্দু ভাষার শব্দ বিন্যাসের ব্যাকরণগত পদ্ধতি নেয়া হয়েছে হিন্দি থেকে। আর শব্দ নেয়া হয়েছে আরবি ও ফারসি ভাষা হতে। উর্দু লেখা হত ফারসি বর্ণমালায়। মুসলমান শাসকগোষ্ঠীর উদ্যোগে উর্দু ভাষার জন্ম। তাই কালক্রমে উর্দু শাসক শ্রেণির এবং মুসলমান অভিজাত শ্রেণির ভাষায় পরিণত।   

 

অপরদিকে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পাকিস্তানের শাসনভার যে রাজনীতিবিদ ও আমলাদের হাতে যায় তারা অধিকাংশেই ছিল উত্তর ভারত থেকে আগত উর্দু ভাষাভাষী লোক। নতুন রাষ্ট্রের ব্যবসা, ব্যাংকিং কয়েকটি পরিবারের হাতে সীমাবদ্ধ হয়। তারাও উর্দু ভাষাভাষী। তাদের মাতৃভাষা ছিল উর্দু। এটি প্রশাসনিক ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ভাষা হলে উর্দু ভাষাভাষীদের জন্য যত সহজ অন্য ভাষাভাষীদের জন্য তত সহজ হবে না।- (তথ্যসূত্র: বদরুদ্দীন ওসর, ভাষা আন্দোলন, সিরাজুল ইসলাম {সম্পাদিত} বাংলাদেশের ইতিহাস ১ম খন্ড)  

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *