একুশ আমার অহংকার

দ: প্রতিবেদক
আর মাত্র ৪দিন পর শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্র“য়ারি ভাষা আন্দোলনের মিছিল ও সমাবেশ চলাকালে সরকারি বাহিনীর গুলিতে বিদ্ধ হন অনেকে। তবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে ছয়জনের। এর মধ্যে পাঁচজনের বিস্তারিত পাওয়া গেলেও পাওয়া যায়নি অপর একজনের। ভাষা শহীদদের পরিচিতি পর্বে আজ থাকছে শহীদ শফিউর রহমান সম্পর্কে।
২৪ শে জানুয়ারী ১৯১৮ সালে কোননগর, হুগলী, চব্বিশ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গে ভাষা শহীদ শফিউর রহমান জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মৌলবী মাহবুবুর রহমান। শফিউর রহমান ঢাকায় বি.এ. ক্লাসে ভর্তি হন এবং ঢাকা হাইকোর্টে হিসাবরক্ষণ শাখায় চাকরি গ্রহণ করেন।
শফিউর রহমানের পাঁচ ভাই ছিল। আসজাদুর রহমান নামে তাঁর এক ভাই সলিমুল­াহ মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তার ছিলেন। প্রতিদিনের মতো ২২ ফেব্র“য়ারী শফিউর রহমান সকাল দশটায় অফিসে রওনা হন। সেদিন পাজামা, শার্ট, গেঞ্জি এবং কোট পরেছিলেন। পায়ে ছিল জুতা। সাইকেলে তিনি অফিসে যাতায়াত করতেন। সকাল সাড়ে দশটার দিকে রাথখোলা, নবাবপুর রোডে ২১শে ফেব্র“য়ারীতে নিহত ভাষা শহীদের স্মরণে জন সমাবেশ, গণমিছিল ও বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে বিক্ষোভ চলছিল ঐ জনসমাবেশে শফিউর রহমান ছিলেন। বিক্ষোভরত জনতার উপর পুলিশ বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করতে থাকলে এক পর্যায়ে শফিউর রহমান খোশমহল রেষ্টুরেন্টের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতরভাবে আহত হন। ওখান থেকে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। তাঁর অস্ত্রোপচার সফল হয়নি প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় ফলে ঐ দিন সন্ধ্যা সাতটায় হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অতি কষ্টে তাঁর লাশ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা মেডিক্যাল কলেজে ঢুকে অনেক লাশ নিয়ে যায় এবং গুম করে ফেলে। সাহিত্যিক হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহবুবুর রহমান (মিটফোর্ডের ছাত্র) এবং আরো কয়েকজন ছাত্র মিলে শফিউর রহমানের লাশ ঢাকা মেডিক্যালের স্টেরিলাইজ ডিপার্টম্যান্টে লুকিয়ে রেখেছিল। ২২ ফেব্র“য়ারী ছিল শুক্রবার।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.