ইস্কাটনে জোড়াখুনের দায়ে সাবেক এমপিপুত্র রনির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
তিন বছর আগে রাজধানীর ইস্কাটনে গুলি চালিয়ে দুজনকে হত্যার দায়ে বখতিয়ার আলম রনিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল ঈমাম আলোচিত এ মামলার রায় গতকাল বুধবার ঘোষণা করেন। রায়ে যাবজ্জীবন সাজার সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদন্ডও দেয়া হয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গুলির ঘটনার সময় রনি যে স্বাভাবিক ছিলেন না, মাতাল ছিলেন। দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলেও আসামির মানসিক ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে মৃত্যুদন্ডের বদলে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হল। রায় ঘোষণার সময় আসামি রনিকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক রায়ের পর সাংবাদিকদের বলেন, রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন। উচ্চ আদালতে রায় বিষয়ে আপিল করবেন।
রায় নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এস এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, আমরা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। তবে আদালত আসামির অবস্থা বিবেচনা করে রায় দিয়েছে। তিনি বলেন, এ মামলার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ আজ রায় ঘোষণার দিনটির জন্য অপেক্ষায় ছিল। যে ঘটনা ঘটেছিল, সেটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও দুঃখজক। এই ঘটনার বিচার হোক, সেটা সবার কাম্য ছিল।
২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে ঢাকার নিউ ইস্কাটনে একটি গাড়ি থেকে ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে আবদুল হাকিম নামের এক রিকশাচালক এবং ইয়াকুব আলী নামের এক অটোরিকশাচালক আহত হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ এপ্রিল হাকিম এবং ২৩ এপ্রিল ইয়াকুব মারা যান। এ ঘটনায় নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম রমনা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ওই বছর ৩১ মে রনিকে আটক করে জানায়, তিনিই সেদিন গাড়ি থেকে গুলি ছুড়েছিলেন।
মামলা হওয়ার তিন মাসের মাথায় ২০১৫ সালের ২১ জুলাই রনিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশের এসআই দীপক কুমার দাস। ‘খুনের উদ্দেশ্য না থাকলেও’ আসামি জানতেন যে তার গুলিতে কেউ হতাহত হতে পারে- এই যুক্তিতে হত্যার অভিযোগ এনে এ মামলায় ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়।
নিহতদের শরীরে পাওয়া গুলির ব্যালাস্টিক রিপোর্ট, রনির অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের প্রতিবেদনসহ মোট ১৫টি আলামত অভিযোগপত্রের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৩৭ জনকে সাক্ষী করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও)। ২০১৬ সালের ৬ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে জোড়া খুনের এ মামলায় রনির বিচার শুরু হয়।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.