July 19, 2024
জাতীয়

ইমারত আইন পর্যালোচনায় জাতীয় কমিশন চান কামাল

 

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

বহুতল ভবনে নির্মাণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনে কোথাও ঘাটতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি জাতীয় কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন। বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এফআর টাওয়ারের সামনে শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

গণফোরাম সভাপতি কামাল বলেন, আইনের ঘাটতি আছে কিনা সেটা দেখার জন্য একটা জাতীয় কমিশন গঠন করা উচিত। যেহেতু এতোগুলো বহুতল বিল্ডিং হচ্ছে এবং সমানে হয়ে যাচ্ছে। আপনি দেখেন, এত বিল্ডিং হচ্ছে, প্রতিদিন বিল্ডিং নির্মাণ হচ্ছেৃ।

‘এত বড় একটা ভয়াবহ ঘটনার পরে এটা আমাদের জন্য একটা ওয়ার্নিং। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে- দেখ, এখানে এসব ব্যবস্থা যদি না করা হয়, নকশা ঠিকমত যদি না করা হয়, বিল্ডিং নির্মাণের সময়ে সব কিছু ঠিকমত না করা হয়, বিশেষ করে এ রকম দুর্ঘটনার সময়ে বের হওয়ার পথ, যেটাকে ফায়ার এস্কেপ বলে- সব দেশে এটা থাকে, এটা ছিলো কিনা।

বনানীর ২২ তলা ওই ভবনে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন লাগার পর প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টার চেষ্টায় তা পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট। ভবনটি নির্মাণে ইমারত বিধি মানা হয়নি এবং সেখানে অগ্নি নির্বাপণের যথেষ্ট ব্যবস্থা ছিল না বলে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের কথাতেই উঠে আসে।

কামাল হোসেন বলেন, আমার দেশের আইনেও দুর্ঘটনা হলে বের হওয়ার পথ থাকার বিধান রয়েছে। আমাদের দেখতে হবে যে আইনে যেসব আছে, তা পালন করা হচ্ছে কিনা। না হলে আমাদের বলতে হবে- এসব পালন করতে হবে, আইনানুগ যেটা কর্তব্য, সেটা করতে হবে। আইন পালন না করলে যেসব কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে সেগুলো নিতে হবে।

এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখতে অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীকে সমন্বয়ক করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি একটি তদন্ত কমিটি করেছে বলে জানান প্রবীণ আইনজীবী কামাল।

তিনি বলেন, আমরা তদন্ত কমিটিতে বসেছি। আমরা আজকে স্বচক্ষে দেখতে এসেছি। আমাদের দেখতে হবে রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালন করছে কিনা, যারা নকশা অনুমোদন করেছে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছে কিনা- এসব প্রশ্ন গভীরে গিয়ে দেখব।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে কামাল বলেন, আপনাদের কোনো তথ্য থাকলে তা এই তদন্ত কমিটিকে দেবেন। গণমাধ্যমের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন।

এ বিষয়ে একটি ‘জাতীয় তদন্ত’ হওয়া প্রয়োজন মন্তব্য করে কামাল হোসেন বলেন, যেনতেনভাবে তদন্ত করলে চলবে না। যে ত্র“টির জন্য এই আগুনটা লাগল, এতো দ্রুত আগুনটা ছড়িয়ে গেল মানুষ বাঁচার জন্য পথ ছিল না।

আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টায় অনেকের লাফিয়ে পড়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি উলে­খ করে গণফোরাম সভাপতি বলেন, যে ঘটনা ঘটে গেল -এটা তো কোনোভাবে হওয়ার কথা না যদি বের হওয়ার পথ থাকে। যেভাবে ১০/১২ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েৃ বাঁচার কথা নয়। বিল্ডিং করার সময় এসব নিয়ম মেনে চলার কথা। বিল্ডিং কোড মানা হয়েছে কিনা। এসব প্রশ্ন আজকে এসে গেছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনজীবীরা আইনি সহায়তা দেবেন জানিয়ে কামাল হোসেন বলেন, তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলবেন।

গণফোরামের নির্বাহী সদস্য সুব্রত চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক, য্বু গণফোরামের সভাপতি কাজী হাবিব, মিডিয়া সমন্বয়ক লতিফুল বারী হামিম, ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ উল­াহ মধু এ সময়ে তার সঙ্গে ছিলেন।

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *