June 20, 2024
জাতীয়

আবরারের নামে হচ্ছে ফুটব্রিজ, শিক্ষার্থীদের ফেরার আহ্বান মেয়রের

ঢাকার নদ্দায় প্রগতি সরণির যে জাগায় বাসের চাপায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছে, সেখানে তার নামে একটি ফুটব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

ঢাকার পুলিশ  কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) উপাচার্য মেজর জেনারেল মো. ইমদাদ-উল-বারিকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার সেখানে একটি ফুটব্রিজের ভিত্তিফলকও উন্মোচন করেছেন তিনি।

সড়ক দুর্ঘটনায় আবরারের মৃত্যুকে অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে মেয়র আতিকুল বলেন, “এই ঘটনা আমিও মেনে নিতে পারি নাই। এই মেনে নেওয়ার ঘটনাও না।”

তিনি বলেন, আবরারের নামে এই ফুটব্রিজ নির্মাণের কাজ দুই মাসের মধ্যে শেষ করা হবে। আবরারের বাবাকে অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তিনি দুই মাস পর এই সেতু উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবরার মঙ্গলবার সকালে নদ্দায় বসুন্ধরা গেইটে সুপ্রভাত পরিবহনেরএকটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

এরপর গত দুদিন ধরে নদ্দায় প্রগতি সরণি অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ বুধবার ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে।

মেয়র আতিকুল ইসলাম মঙ্গলবার বিক্ষোভ শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও তাতে সাড়া না দিয়ে দিনভর বিক্ষোভ চালিয়ে যায় তারা।শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সে সময় মেয়রের কাছে কিছু দাবিও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- আবরারকে চাপা দেওয়া বাসের চালককে ১০ দিনের মধ্যে ফাঁসি দিতে হবে, সুপ্রভাত বাসের রুট পারমিট বাতিল করতে হবে, সিটিং সার্ভিস বন্ধ করতে হবে, চালকদের ছবি ও লাইসেন্স গাড়িতে ঝোলানোর ব্যবস্থা করতে হবে, বসুন্ধরা গেইটে ফুটব্রিজ নির্মাণ করতে হবে, প্রতিটি জেব্রা ক্রসিংয়ে সিসি ক্যামেরা বসাতে হবে এবং ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

মঙ্গলবারের ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা নদ্দায় বসুন্ধরা গেইটে জড়ো হতে শুরু করেন। সাড়ে ৯টার দিকে তারা রাস্তায় অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

‘জাস্টিস ফর আবরার’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আর কত রক্ত ঝরতে হবে রাস্তায়’- এরকম নানা স্লোগানে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাতে থাকেন তারা।

ওই বিক্ষোভের মধ্যেই বেলা ১১টার দিকে সেখানে যান মেয়র, ডিএমপি কমিশনার ও বিইউপির উপাচার্য।

ফুটব্রিজের ভিত্তিফলক উন্মোচন করে মেয়র ঢাকার রাস্তায় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে ইতোমধ্যে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। ওই প্রক্রিয়ায় বেসরকারি বিশ্ববদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও সম্পৃক্ত করার কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, “দাবি যেগুলো করা সম্ভব সেগুলো করা হবে। বাকিগুলো ধীরে ধীরে করা হবে।”

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রভাত পরিবহনের ওই বাসের নিবন্ধন মঙ্গলবারই সাময়িকভাবে বাতিল করার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ।

ওই বাসের চালক হলকা যানবাহন চালানোর লাইসেন্স নিয়ে কীভাবে একটি যাত্রীবাহী বাস চালাচ্ছিলেন- সেই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেয়র আতিকুল।

সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকেই সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়ে মেয়র বলেন, “যেখানে ফুটব্রিজ আছে, আসুন আমরা সকলে তা ব্যবহার করি।”মেয়র যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, উপস্থিত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তখন ‘ভুয়া’, ‘ভুয়া’ বলে চিৎকার করছিলেন।

মেয়রের আগে কথা বলতে এসে ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামানি মিয়া বলেন, “কোমলমতি শিক্ষার্থদের এই দাবি যৌক্তিক। আমরা জান বাজি রেখে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

সড়কের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে একন ‘অনেক অগ্রগতি’ হলেও নানা কারণে পুরোপুরি সাফল্য আসেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, “এখন আমরা কঠোর আইনে যাচ্ছি। পাল্লা দিলে, একটা বাসের আগে আরেকটা বাস রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে; শক্ত ব্যবস্থা নিতে আমরা বদ্ধপরিকর।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তারা দাবি পূরণে মেয়রকে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন। সড়কে তাদের অবস্থান চলবে।

ফুটব্রিজের ভিত্তি ফলক উন্মোচন করে মেয়র চলে গেলে দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল তার সঙ্গে বৈঠক করতে যান।

বিইউপির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মিডিয়া সেলের প্রতিনিধি সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র শাকিল আহমেদ বলেন, “ওই বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, আমরা তার অপেক্ষা করছি। প্রতিনিধি দল ফিরে এলে আমরা পরবর্তী করণীয় ঠিক করব।”

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *