আবজাল দম্পতিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

 

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনে সরকারের সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল এডুকেশন শাখার সাবেক হিসাবরক্ষক আবজাল ও তার স্ত্রীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শুক্রবার কক্সবাজার সদর থানায় দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক শহিদুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। গতকাল মামলাটি অনুমোদন করে কমিশন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন

মামলার আসামিরা হলেন-কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ডা. মো. রেজাউল করিম (অবসর), অধ্যাপক ডা. সুবাস চন্দ্র সাহা, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন এবং লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল রশিদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল এডুকেশন শাখার সাবেক হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মো. আবজাল হোসেন, রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মিসেস রুবিনা খানম, কক্সবাজার জেলার হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা সুকোমল বড়ুয়া, এসএএস সুপার সুরজিত রায় দাস (অবসর), কক্সবাজার জেলার হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা পংকজ কুমার বৈদ্য, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের হিসাবরক্ষক হুররমা অকতার খুকী, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়নের সাবেক উচ্চমান সহকারী মো. খায়রুল আলম (বর্তমানে প্রধান সহকারী)। দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলমের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি টিম এ অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধানে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজে সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ক্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে আবজাল হোসেনের স্ত্রী রুবিনা খানমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের সংশ্লিতা পাওয়া গেছে। রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজে সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম যাচাই করে ওই অনিয়মের তথ্য পেয়েছে দুদক।

চলতি বছরের ১২ ফেব্র“য়ারি আবজাল হোসেন, তার স্ত্রী রুবিনা খানম এবং তাদের ১৫ জন নিকটাত্মীয়ের আরো সম্পদের খোঁজে মাঠে নামে সংস্থাটি। সুনির্দিষ্টভাবে এই ১৭ জনের সম্পদের খোঁজ চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় চিঠি দেয় সংস্থাটি। তাদের ধারণা, আবজালের যেসব সম্পদের তথ্য তাদের হাতে আছে, তার বাইরেও অনেক সম্পদ রয়েছে। আবজাল দম্পতি তাদের নিকটাত্মীয়দের নামে ওই সব সম্পদ করেছেন। তাই ওই সব সম্পদের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়।

দুদক সূত্র জানায়, আবজাল হোসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার স্ত্রী রুবিনা খানম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার প্রাক্তন স্টেনোগ্রাফার। এখন তিনি রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে ব্যবসা করেন।

এ দম্পতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমে গত ১০ জানুয়ারি আবজাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। আবজাল ও রুবিনার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক। আবজাল হোসেনের বাড়ি ফরিদপুরে। ১৯৯২ সালে তৃতীয় বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর আর পড়াশোনা করা হয়নি তার। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের সুপারিশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন প্রকল্পে অফিস সহকারী পদে অস্থায়ীভাবে যোগ দেন তিনি। ২০০০ সালে প্রকল্পটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হলে তিনি ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে অফিস সহকারী হিসেবে যোগ দেন। সেখান থেকে কুমিল­া মেডিক্যাল কলেজে ক্যাশিয়ার পদে বদলি হন। এই ধারাবাহিকতায় তিনি বর্তমান পদে যোগ দেন।

আবজাল হোসেনের স্ত্রী রুবিনা খানম একই প্রকল্পে স্টেনোগ্রাফার হিসেবে কুমিল­া মেডিক্যাল কলেজে যোগ দেন ১৯৯৮ সালে। ২০০০ সালে স্বেচ্ছায় অবসরে গিয়ে রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে ব্যবসা শুরু করেন। মূলত স্বামী-স্ত্রী মিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একচেটিয়া ব্যবসা করার জন্য তারা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

 

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.