আদালত অবমাননার দায়ে সাবেক জেলা জজের দণ্ড

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
ফেনীর সাবেক জেলা জজ মো. ফিরোজ আলমকে আদালত অবমাননার দায়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে হাই কোর্ট। জরিমানার এই অর্থ ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ না করলে সাত দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে সাবেক এই বিচারককে। ষোল বছর আগে হাই কোর্টের একজন বিচারক ফেনী সফরে গিয়ে প্রটোকল না পাওয়ায় আদালত একটি রুল জারি করে। সে সময় ফিরোজ আলম ছিলেন ফেনীর জেলা জজের দায়িত্বে।
সেই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার ফিরোজ আলমকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেয়। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের ভ্রমণ ও পরিদর্শনের ক্ষেত্রে প্রটোকল ব্যবস্থা নিয়ে কয়েক দফা নির্দেশনাও দিয়েছে হাই কোর্ট। এসব নির্দেশনা সার্কুলার আকারে জারি করতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও আইন সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে ফিরোজ আলমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফয়সাল এইচ খান ও আইনজীবী মইন উদ্দিন টিপু। এ মামলার অপর দুই বিবাদী ফেনী জেলা জজ আদালতের দুই কর্মচারী ইয়ার আহমেদ ও আলতাফ হোসেনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রাফি আহমেদ।
রায়ের পর আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী পরে বলেন, হাই কোর্ট আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে ফেনী জেলা জজ আদালতের নাজির ও নায়েবে নাজিরকে অব্যাহতি দিয়েছে। তবে তৎকালীন জেলা জজ ফিরোজ আলমকে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা করেছে।
২০০৩ সালের অক্টোবরে হাই কোর্টের তৎকালীন বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম ফেনী সফরে যান। তার সফরসূচি জানিয়ে ফেনী জজ আদালতে আগেই চিঠি পাঠানো হয়। ২২ অক্টোবর দুপুরে ট্রেনে করে ফেনী পৌঁছে জেলা জজ আদালতের কোনো প্রতিনিধিকে না পেয়ে জেলা জজকে ফোন করেন বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম।
আদালতের একজন কর্মচারী ফোন ধরে তাকে বলেন, জজ এজলাসে আছেন, এজলাস থেকে নামলে বিষয়টি তাকে জানানো হবে। কিছুক্ষণ পর আবারও জেলা জজকে ফোন করেন হাই কোর্টের বিচারক। তখনও আদালতের ওই কর্মচারী একই কথা বলেন।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বিকাল সাড়ে ৪টায় বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম তার ছেলেকে জেলা আদালতে পাঠান। কিন্তু সেখানে জেলা জজ বা কোনো কর্মকর্তা তার সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। পরে জেলা প্রশাসক ওই বিচারপতির প্রটোকলের ব্যবস্থা করেন।
সফর শেষে তিনি ঢাকায় ফেরার পর ওই বছরের ২৯ অক্টোবর ফেনীর জেলা জজ মো. ফিরোজ আলমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করে হাই কোর্ট। জেলা জজ ফিরোজ আলম ছাড়া অন্য দুজন হলেন ফেনী জেলা আদালতের নাজির ইয়ার আহমেদ ও নায়েবে নাজির আলতাফ হোসেন।
আদালত অবমাননার নোটিস পেয়ে ওই বছরের ১২ নভেম্বর হাই কোর্টে হাজির হয়ে তিন জনই মৌখিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। হাই কোর্ট তাদের লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলে ১৭ নভেম্বর বিষয়টি আদেশের জন্য রাখে। কিন্তু নির্ধারিত তারিখের আগেই জেলা জজ ফিরোজ আলম আপিল বিভাগে আবেদন করলে আপিল বিভাগ হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে। পরে ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি আপিল বিভাগ ফিরোজ আলমের আবেদনটি খারিজ করে রুল শুনানির আদেশ দেয়। তার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার চূড়ান্ত রুল শুনানি শেষে রায় দিল হাই কোর্ট।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.