অলির নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ

 

 

 

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

ভোটের ফল প্রত্যাখ্যানের পর সংসদে যোগ দেওয়া নিয়ে বিএনপির সঙ্গে মতানৈক্যের মধ্যে নতুন একটি রাজনৈতিক মঞ্চের ঘোষণা দিলেন এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ। ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নামে নবগঠিত এই প্ল্যাটফর্মে এলডিপির সঙ্গে রয়েছে ২০ দলীয় জোট শরিক কল্যাণ পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ও ন্যাশনাল মুভমেন্ট। তবে নতুন প্ল্যাটফর্ম নিয়ে এগিয়ে চললেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটেও থাকছেন বলে জানিয়েছেন অলি আহমদ।

বিএনপির এক সময়ের নীতি-নির্ধারকদের একজন অলি দেড় দশক আগে এলডিপি গঠন করে রাজনীতির মাঠে সক্রিয়। প্রথমে আওয়ামী লীগের জোটে তারা গেলেও পরে পথ পরিবর্তন করে বিএনপির জোটে যোগ দিয়ে এখনও রয়েছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ২০ দলের বাইরে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আলাদা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে। ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্ট বিএনপির সমন্বয়ের মধ্যে ওই নির্বাচনে অংশ নেয়।

ওই ভোটের ফল প্রত্যাখ্যানের পর সংসদে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা ছিল ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের। কিন্তু বিএনপি ও গণফোরামের বিজয়ীদের শপথ গ্রহণ করলে তাতে ক্ষুব্ধ হন অলিসহ অন্যরা।  তা নিয়ে মন কষাকষি চলার মধ্যেই বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসে অলি ‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চ’ গঠনের ঘোষণা দেন।

তাহলে আপনারা ২০ দলীয় জোটে থাকবেন কি না- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, জাতীয় মুক্তিমঞ্চ কোনো জোট নয়। আমরা ২০ দলীয় জোটে আছি এবং থাকব। এই প্রসঙ্গে বিএনপির জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। ২০ দলীয় জোটের মূল দল বিএনপি। তারা তো ওই জোটে থেকেই ড. কামাল হোসেন সাথে (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) কাজ করছেন।

এই মঞ্চ নিয়ে বিএনপিরও আপত্তি থাকার কারণ নেই বলে মনে করেন অলি। ১৩ মে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের মিটিংয়ে বিএনপির নজরুল ইসলাম খান পরিষ্কারভাবে বলেছেন, আপনারা যে যেভাবে পারেন, বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য নিজ নিজ মঞ্চ থেকে আন্দোলন শুরু করেন।

আমরা আজকে নয়, বেগম জিয়া জেলে যাওয়ার পর থেকে এলডিপি বহুবার তার মুক্তির জন্য সভা-সমাবেশ করেছে। আজকে যারা আমার দুই পাশে আছেন, তারা অনেকে আমার সাথে ছিলেন। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তি, চেতনার পক্ষের শক্তি এবং জাতিকে মুক্ত করতে জাতীয় মুক্তি মঞ্চে থাকতে চায়।

এই মঞ্চ গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, দেশের বর্তমান নাজুক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমরা নির্বিকার থাকতে পারি না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। বেগম জিয়া যদি কারাগার থেকে মুক্ত হন, একনায়কতন্ত্র থেকে যদি দেশ মুক্ত হয়, তখন জাতি মুক্ত হবে।

এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ ঘোষণা করছি। আমি আশা করি, জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সকল শক্তি আমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতিকে মুক্ত করতে এগিয়ে আসবে।

জনগণ ভয় পেয়ে ঘরে ঢুকে আছে, তাদেরকে ঘর থেকে বের করতে হবে এবং সরকারকে বোঝাতে হবে আপনারা ভুল পথে আছেন, সোজা পথে আসুন। জাতীয় মুক্তিমঞ্চ থেকে নির্দলীয় নিরপক্ষে সরকারের অধীনে পুনরায় সংসদ নির্বাচন আয়োজন, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.