অভয়নগরে স্বপ্নের ভৈরব সেতুর উদ্বোধন

আ’লীগ দেশে যোগাযোগের ব্যাপক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে : প্রধানমন্ত্রী

মল্লিক খলিলুর রহমান, অভয়নগর
যশোরের অভয়নগর উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ভৈরব সেতুটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এই ভৈরব সেতুর উদ্বোধনের ফলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। সেতুটি উদ্বোধনের ফলে যশোর-খুলনা মহাসড়কের সাথে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার সরাসরি সংযোগ স্থাপন হবে।
উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আমরা সারাদেশে যোগাযোগের ব্যাপক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি। যার ফলে, আজকে আমাদের অর্থনীতির চাকা অনেক সচল। আরো অনেক কাজ আমরা শুরু করেছি সেগুলোও সম্পন্ন করবো, ইনশাল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী করোনার মধ্যে সরকারের সাফল্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘দারিদ্র্য সীমা যেমন আমরা কমিয়ে এনেছি, মাথাপিছু আয় আমরা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মানুষের জীবন মান যে উন্নত করা যায় সেটাও আমরা প্রমাণ করেছি।’
সেইসাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার সুযোগ, বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আনার ব্যবস্থা, সর্বোপরি অর্থনীতির চাকাটা যাতে সব সময় সচল থাকে সে সব দিকে বিশেষভাবে নজর দিয়েই তাঁর সরকার পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করছে, বলেন তিনি।
এদিন প্রধানমন্ত্রী যে প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন করেছেন সেগুলো হচ্ছে-মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলাধীন মধুমতি নদীর উপর এলাংখালী ঘাটে ৬০০ দশমিক ৭০ মিটার দীর্ঘ শেখ হাসিনা সেতু, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলাধীন মুড়াপাড়া ফেরিঘাট রাস্তায় শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ১০০০০ মিটার চেইনেজে ৫৭৬ দশমিক ২১৪ মিটার দীর্ঘ বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) সেতু এবং যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলায় সড়ক ও জনপথের যশোর-খুলনা সড়কের ভাঙ্গাগেট (বাদামতলা) হতে আমতলা জিসি ভায়া মরিচা, নাউলী বাজার সড়কে ভৈরব নদীর উপর ৭০২ দশমিক ৫৫ মিটার দীর্ঘ সেতু। এছাড়া, উত্তরবঙ্গের প্রবেশ দ্বার পাবনায় ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বরেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে গণভবনের সঙ্গে সচিবালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, মাগুরা, নারায়ণগঞ্জ ও যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং পাবনার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বর সংযুক্ত ছিল।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন এবং পাবনা প্রান্ত থেকে স্বাধীনতা চত্বর বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী বক্তৃতা করেন।
এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টচার্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রান্তে এবং নারায়ণগঞ্জ প্রান্তে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বীর প্রতীকসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, গণমান্য ব্যক্তিবর্গ জনপ্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং উপকারভোগী জনগণ নিজ নিজ প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে নবনির্মিত তিনটি সেতু এবং ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বর’ এর ওপর দুটি পৃথক ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।
ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অভয়নগর থেকে উপস্থিত ছিলেন অভয়নগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেএম রফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সানা আব্দুল মান্নান, আওয়ামী লীগ নেতা ও নওয়াপাড়া বাজার কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, শ্রীধরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রওশন আলী মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ফারাজী, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আব্দুস সালামসহ উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানায়, অভয়নগরের বুক চিরে বয়ে চলা ভৈরব নদ এ উপজেলাবাসীকে বিভক্ত করে রেখেছিল। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্বপ্নের ভৈরব সেতুর উদ্বোধন হওয়ায় নদের এপরা-ওপার মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধনের সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে কৃষি, মৎস্য ও বাণিজ্যের।
উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সরদার জানান, ৭০২ দশমিক ৫৫ মিটার দীর্ঘ এবং ৮ দশমিক ১ মিটার প্রস্থের ভৈরব সেতু নির্মাণ কাজে ব্যয় হয়েছে ৭৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। সেতুর দুই প্রান্তে ৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে অতিরিক্ত আরো ৭ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সেতু নির্মাণের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ছিল ম্যাক্স গ্রুপ। ২০১৫ সালের জুন মাস থেকে শুরু হয়েছিল সেতুর নির্মাণ কাজ। জমি অধিগ্রহণের কারণে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হতে বিলম্ব হয়েছে। ১৫টি পিলারের (কলাম) সমন্বয়ে সেতুটি নির্মিত হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিন/ এম জে এফ

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *