অবশেষে চুরি হয়ে যাওয়া স্কুটি ফেরত পেল শাহনাজ  

দক্ষিণাঞ্চল অনলাইন ডেস্ক

ফেসবুকে কয়েকদিন আগে বেশ আলোচনা এসেছিল উবার বাইক রাইডার শাহনাজ। ঘটনাটি শুরু হয় ফেসবুকে “উবার ইউজারস অফ বাংলাদেশ নামক” গ্রুপ থেকে। সেখানে একজন রাইডার সর্বপ্রথম রাইড নেই শাহনাজের বাইকে, তখন এক কথায় দুই কথায় উঠে আসে কতটা কষ্ট করে দুই সন্তান নিয়ে স্কুটি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় তাকে। অধিকাংশ পুরুষই তার বাইকের রাইড নিতে চায় না এতে তার মন খারাপ হয়ে যেত কারণ সংসারের চালানোর একমাত্র চাকা তার স্কুটি এবং সেই আয় দিয়ে তার দুটি মেয়ের পড়াশোনা এবং তার সংসার চলতো। দুঃখের বিষয় মেয়েদের বাবা বিয়ে করেছে অন্য এক জায়গায়। শাহনাজের এই প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য বেশ আলোচিত হয়ে উঠেন তিনি এবং ফেসবুকের নেটিজেনরা ও তাকে বেশ বাহবা দেয়। সে চাইলে অন্য পথে যেতে পারত কিন্তু না যে কতটা সৎ ভাবে, নিষ্ঠার পথে থেকে এবং সম্মানের সাথে কষ্ট করে আয় করছেন সে ভেসে ওঠে তার বক্তব্যে। 

উবার ইউজারস অফ বাংলাদেশ গ্রুপে শাহনাজের গল্প

কিন্তু বিপত্তি ঘটে গতকালকে, স্কুটি টি দেখতে চাওয়ার কথা বলে এক দুষ্কৃতকারী নিয়ে চলে যায় এবং চোখের সামনে হারিয়ে যায় তার সংসার চালানোর একমাত্র মাধ্যম। এতে বেশ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউতে অবস্থিত রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এবং এর পরে গতকাল রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। এজাহার থেকে জানা যায় জনি নামের একজনের সাথে তার পরিচয় হয়। জনি ও নিজেকে পাঠাও চালক বলে পরিচয় দেয় এবং শাহনাজকে একটি স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করে দিবে বলে আশ্বস্ত করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ তারিখে জনি তাকে রাজধানীর খামার বাড়িতে দেখা করতে বলে। তখন শাহনাজ আসার পর জনি তার স্কুটিতে উঠে বসে এবং ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করতে থাকে পরিশেষে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এসে এক টং এর দোকানে চা পান করেন দুজন। এক পর্যায়ে সুচতুর জনি স্কুটি নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর দুচোখ পানি নিয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় এসে অভিযোগ দেন শাহনাজ এবং প্রতিজ্ঞা করেন স্কুটি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তিনি তার মাথার হেলমেট খুলবেন না।

স্কুটি চুরি হয়ে যাওয়ার পর ক্রন্দনরত শাহনাজ

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। বিপিএম, পিপিএম, স্কুটিটি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সেই অভিযোগের তদন্তে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের থানায় না ফেলার নির্দেশ দেন। এর ১২ ঘণ্টা পরই শাহানাজ আক্তার এর স্কুটি টি উদ্ধার করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। স্কুটি টি মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটা দিক থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা দিন রঘুনাথপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। স্কুটি উদ্ধারের খবর তাৎক্ষণিকভাবে শাহনাজকে জানানোর পর তিনি জানান তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, বিপিএম, পিপিএম স্যারকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা  জানিয়েই তিনি হেলমেট খুলবেন। পরে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের নিকট হতে স্কুটি গ্রহণ করেন শাহনাজ এবং পুলিশের ভূমিকা কে প্রশংসা করে আশা করেন বাংলাদেশের সকল পুলিশ এমন সেবাদান করবেন সবাইকে।

আটক চুরির সাথে সংশ্লিষ্ট জনি (ছবি- DC Tejgaon – DMP ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)

পুলিশের এমন অনন্য দৃষ্টান্ত এবং পরিশ্রম ফেসবুকবাসীরাদের নিকট অনেক প্রশংশিত হয়েছে এবং তারাও আশা করছে ভবিষ্যতে পুলিশের কাছ থেকে এমন সেবা পাবেন এবং বিশ্বাস করে পুলিশ একটু চাইলে অনেক কিছু করে পারে।

DC Tejgaon-DMP পেজ থেকে সংগৃহীত

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.