অচল মহাসড়ক, দুর্ভোগে উত্তরের যাত্রীরা

০ দফা দাবিতে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় ডাকা পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে সিরাজগঞ্জের সবগুলো মহাসড়ক অচল হয়ে পড়েছে। ঢাকা থেকে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের উদ্দেশ্যে যাওয়া যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

এদিকে যে থ্রি-হুইলার বন্ধের দাবিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘট, মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সেসব পরিবহন। অপরদিকে অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘটের আসল কারণও জানেন না কোনো শ্রমিক।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কের নলকা মোড় ও হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান করে দেখা যায়, ধর্মঘটের ফলে চিরচেনা মহাসড়কটি অধিকাংশ সময়ই থাকছে সুনসান নীরব। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। তবে সিরাজগঞ্জ শহরমুখী ও ঢাকাগামী বাস চলাচল করছে। এসব বাস চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা পরিবহন ধর্মঘটের প্রকৃত কারণ জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

অনেক যাত্রীই সিএনজিচালিত অটোরিকশা, শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ভটভটিতে চেপে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। মূল গন্তব্যে পৌঁছাতে এমন একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করতে হবে বলে জানান তারা। আবার কেউ কেউ ট্রাকে চেপে রওনা দিচ্ছেন গন্তব্যে।

মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে কুষ্টিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছেন জেরিন বেগম। সিরাজগঞ্জ হাটিকুমরুল গোলচত্বর আসার পর আর কোনো গাড়ি না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। অবশেষে গন্তব্যে পৌঁছাতে খোলা ট্রাকেই রওনা হয়েছেন তিনি। জুয়েল নামে একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাবেন, তিনিও ট্রাকে চেপেছেন। একই ট্রাকে যাচ্ছেন আবুল কাসেম, সোরমান আলী নামের দুই বৃদ্ধও। তারা সবাই বিভিন্ন স্থানে যাবেন। হাটিকুরুল গোলচত্বর আসার পর তিন-চার ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর কোনো গাড়ি না পেয়ে বাধ্য হয়ে ট্রাকে চেপেছেন তারা। প্রচণ্ড শীতে খোলা ট্রাকে যেতে কষ্ট হলেও উপায় নেই বলে জানান তারা।

বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, দুদিন ধরেই রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশে যাচ্ছেন যাত্রীরা। বাস বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, লেগুনা ও ট্রাকের ওপর ভরসা করছেন তারা। দিগুণ ভাড়া দিয়ে এসব গাড়িতে ভেঙে ভেঙে যাচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

মহসিন আলী নামে এক অটোরিকশা শ্রমিক জানান, অটোরিকশাযোগে কাছিকাটা, বনপাড়া পর্যন্ত যাত্রীরা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতে আরও বেশি যাত্রী হয় বলে তিনি বলেন। লেগুনা চালক আমিনুর বলেন, আমরা কাছিকাটা পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে যাচ্ছি। এরপর পুলিশের চেকপোস্টের কারণে যাওয়া যায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন বাসচালক বলেন, ধর্মঘটের প্রকৃত কারণ তার জানেন না।

সিরাজগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল শেখ দুলু জানান, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ সংশোধন, মহাসড়ক থেকে নছিমন, করিমন, ভটভটিসহ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধসহ ১০ দফা দাবিতে আমাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। আমাদের দাবি মানা না হলে এ আন্দোলন চলমান থাকবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীর সমাবেশে যেতে বাধা দিতেই এই পরিবহন ধর্মঘট ডাকতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু কোনো বাধাই বিএনপি নেতাকর্মীদের সমাবেশে যেতে প্রতিবন্ধকতা হবে না। স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহীতে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *