বিভিন্ন দেশে ভালোবাসা দিবসের রীতিনীতি

আলি আবরার

আমেরিকা


প্রত্যেক বছর ফেব্রুয়ারি ১৪ তারিখে আমেরিকাতেও ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন করা হয়। সব জায়গায় হৃদয় আকৃতির ভালবাসার চিহ্ন থাকে এবং প্রিয়জনকে সবাই লাল গোলাপ এবং চকলেটের বক্স দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করে। আপনি এটাও বলতে পারেন আমেরিকাতে ভালোবাসা আকাশে বাতাসে থাকে।

জাপান


জাপানে ভ্যালেন্টাইন্স ডে মানেই হলো চকলেট আর চকলেট। ফেব্রুয়ারি ১৪ তে মেয়েরা সাধারনত দুই ধরনের চকলেট পছন্দ করে থাকে, একটি নাম গিরি চকো আরেকটি নাম হনমে চকো। গিরি চকো সাধারণত অনেক দামি। মেয়েরা চকলেট গুলো তাদের কাছের বন্ধু,প্রেমিক এবং ছেলে সহপাঠীদের দিয়ে থাকে এবং বিভিন্ন স্কুলের মেয়েরা গিরি চকো সব বন্ধুদের দেয়। অপরদিকে হনমে মেয়েরা বাসায় বানায় এবং তাদেরকে দেয় যারা তাদের কাছে অনেক স্পেশাল । চকলেট দেয়ার মাধ্যমে তার ভালোবাসা প্রকাশ করে। ভ্যালেন্টাইন্স ডের একমাস পরে মার্চের ১৪ তারিখে জাপানি ছেলেরা হোয়াইট ডে পালন করা। যে সকল ছেলেরা ফেব্রুয়ারি ১৪ তারিখে চকলেট পেয়ে থাকে সেগুলোর প্রতি উত্তর স্বরুপ তারা তাদের মেয়ে বন্ধুদের সাদা রঙের চকলেট দেয়। সর্বপ্রথম এই প্রথা চালু হয় ১৯৭৮ সালে। এই দিন গুলোতে সাধারনত চকলেট কোম্পানীর অনেক চকলেট বিক্রি হয়। জাপান ছাড়াও ভিয়েতনাম এবং সাউথ কোরিয়াতে হোয়াইট ডে পালন হয়।

ডেনমার্ক


ভ্যালেন্টাইন ডে ডেনমার্কে একটি হলিডে হিসেবে পালিত হয়। আমেরিকা তে লালগোলাপ দিলেও ডেনমার্কের যুবক-যুবতীরা একে অপরকে সাদা রঙের ফুল দেয়, যে গুলোকে স্নো-ড্রপস বলা হয়। তারা তাদের বন্ধু, প্রিয়তম উভয়কে এই ফুল দেন। আরেকটু বড় পরম্পরা হল তারা তাদের প্রিয়জনের সাথে ভালোবাসার কার্ড বদল করে। অতীতে এই কার্ডগুলোতে এমন একটি ছবি থাকতো যেগুলোর মাধ্যমে তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করত কিন্তু বর্তমানের সাধারণত যে কোন ধরনের কার্ড তারা বদল করে যেগুলোকে লাভার কার্ড বলা হয়। এছাড়াও ১৪ ই ফেব্রুয়ারি ডেনমার্কের ছেলেরা মেয়েদের আরেকটি গিফট দেয় যেটা কে গেকেব্রেভ বলা হয়, এটাকে ইংলিশে বলা হয় জোক লেটার বা মজার পত্র। এগুলা তে সাধারণত কবিতা লেখা থাকে কিন্তু এগুলোর শেষে লেখক এর কোন স্বাক্ষর থাকে না। সে এক ধরনের ডট ব্যবহার করে তার নামের অক্ষরের সাথে মিল রেখে, রীতি অনুযায়ী কোন মেয়ে যদি অনুমান করতে পারে তাকে কে এই মজার পাত্রী পাঠিয়েছে সে পুরস্কার হিসেবে সেইদিনই একটি ইস্টার্ন ডিম পায়।

ব্রাজিল
সাধারণতঃ ব্রাজিলের বিশাল কার্নিভাল ভালোবাসা দিবসকে বলতে গেলে এক তরফা ঢেকে ফেলে। ব্রাজিলিয়ানরা সাধারণত ভালোবাসা দিবসের মতো আরেকটি দিন পালন করেন জুনের ১২ তারিখে। দিনটিকে ভালোবাসার দিন বলে তার আখ্যায়িত করে ব্রাজিলিয়ানরা। এই দিনটি গিফট এবং কার্ডের দেওয়ার মাধ্যমে পালন করে। এছাড়াও এর সাথে থাকে ফুল এবং চকলেট। এর পরের দিন জুনের ১৩ তারিখে হলো সেন্ট এন্টনি ডে, এই পর্তুগালের ক্যাথলিক যাজক ভালোবাসা যুগলদের সাহায্যের জন্য বিখ্যাত ছিল। এজন্য তাকে ভালোবাসা এবং যুগলদের দূত বলে মানা হয়।

ফিলিপাইন


ফিলিপাইন ভালবাসা দিবস পালন করে অনেক জাঁকজমক ভাবে এবং সাধারণত এই দিনটিতে তারা একসাথে অনেকেই বিয়ে করে। জিনিসটা অনেকটা এমন যে ১৪ ই ফেব্রুয়ারি তাদের জনসংখ্যার অনেকেই বিবাহ বার্ষিকী পালন করে।
কয়েক শত বা কয়েক হাজার ফিলিপিনো যুগল মিলে একটি স্থানে গন জমায়েত করে এবং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং এই গণবিবাহ গুলাতে সরকার থেকে সাহায্য করা হয়ে থাকে। এই অনুষ্ঠান গুলো অধিকাংশ সময় পুরোপুরি ফ্রি হয় এবং এগুলোতে থাকে ফুল, কেক এবং মাঝে মাঝে বিয়ের আংটি।

ফ্রান্স
প্যারিস কে কিন্তু ভালোবাসার রাজধানী বলা হয়ে থাকে! সর্ব প্রথম ভালবাসা দিবসের শুরু হয় ফ্রান্সের থেকেই এবং কার্ড বদল করার বিষয়টা ও এসেছিল এই ফ্রান্সের থেকে, যেটি সর্বপ্রথম চার্লস ডিউক অফ অর্লিন্স পাঠিয়েছিল তার কারাবন্দি স্ত্রীকে তাও ১৪১৫ সালে! এবং বর্তমানেও কার্ড বদল করা ফ্রান্সের অনেক বড় একটি ভালোবাসার রীতি এর মধ্যে পড়ে আছে। তাদের ভালোবাসা দিবসে আর একটি প্রচলিত রীতি হল এক ধরনের ইভেন্ট যেটাকে বলা হয় ভালোবাসার জন্য চিত্রাংকন। এই ইভেন্টে বেশ আলোচিত এবং সমালোচিত কারণ এখানে ছবি দিয়ে ঘর পূর্ণ থেকে শুরু করে ছবি আগুন ধরিয়ে দেওয়া পর্যন্ত হয় এবং এটা কন্ট্রোলের এতটাই বাইরে চলে গিয়েছে যে ফ্রান্সের সরকার এটা কে নিষিদ্ধ করেছে।

চায়না


ভ্যালেন্টাইনস দিনের মতো তাদের আরেকটি অনুষ্ঠান হয় যেটা কে কিজি বলা হয়, যেটি সপ্তম লুনার মাসের সপ্তম রাতে পালন করা হয়। এটি সাধারণত একটি গল্প থেকে এসেছে যেখানে একটি রাজকুমারী একটি রাখাল বালকের প্রেমে পড়ে এবং রাজকুমারীকে আটকানোর জন্য তার বাবা অনেক চেষ্টা করে কিন্তু পরে ব্যর্থ হয়ে তার মেয়েকে বছরে কেবল একটি দিন সে রাখাল বালকের সাথে দেখা করতে দেয় এবং সে দিনটি কিজি বলা হয়। কিজির দিনে অল্প বয়সী মেয়েরা অনেক ফল এবং লেবু সেই রাজকুমারীর নামে উৎসর্গ করে একটি ভালো স্বামী পাওয়ার জন্য। তাছাড়া যুগলরা এক সাথে মন্দিরে যায় তাদের মঙ্গল কামনা করার জন্য এবং রাতের বেলা তারা আকাশে তারা মিলিয়ে দেখে।

ইংল্যান্ড


ভ্যালেন্টাইন ডে তে মেয়েরা তাদের বিছানার বালিশে পাঁচটি তেজপাতা রাখেন, চারটি চার কোনায় এবং একটি বালিশে মাঝখানে এবং তারা এর মাধ্যমে আশা করে তারা স্বপ্নে তাদের ভবিষ্যতের স্বামীকে দেখতে পাবে।

ইটালি


ইটালিতে ভ্যালেন্টাইনস ডে বসন্ত উৎসব হিসেবে পালন করা হয়। যুবক-যুবতীরা বিভিন্ন খোলা মাঠে জামায়াত করে গল্প,কবিতা, আবৃত্তি এবং গান শোনার জন্য।
আরেকটি ইটালিয়ান প্রথা হল যুবতীরা দিনের শুরুতে ঘুম থেকে উঠে এই আশায় যে তারা তাদের ভবিষ্যতের স্বামীকে দেখতে পাবেন যেটি একটি গল্প থেকে এসেছে। এছাড়াও ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে তারা একে অপরকে গিফট দেয় এবং রাতের বেলা একসাথে ডিনার করা। সবথেকে প্রচলিত ভ্যালেন্টাইন ডে এর গিফট হল “বাসি পেরুগিনা” যেটি হল হ্যাজেলনাট সংবলিত এক ধরনের চকলেট যেটাতে অনেক ভালোবাসার উক্তি লেখা থাকে চারটি ভাষায়।

সাউথ আফ্রিকা


বিভিন্ন দেশের মতো সাউথ আফ্রিকা তো ভ্যালেন্টাইনস ডে একটি রীতি এর মাধ্যমে পালিত হয়।
এবং যুবক-যুবতীরা একে অপরকে ভালোবাসার নিদর্শন হিসাবে ফুল দিয়ে থাকে। মেয়েরা সাধারনত তাদের জামার হাতায় একটি হার্ট শেপের চিহ্ন পড়ে থাকে যেটাতে তাঁরা তাঁদের ভালো লাগার মানুষটির নাম লিখে রাখে, যেটি একটি রোমান প্রথা থেকে আসছে। এবং এর মাধ্যমে ছেলেরা জানতে পারে তাদের কে কারা পছন্দ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial