সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
দ. প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সফরে মোংলায় গিয়ে বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় প্রবেশ করেন। সেখানে প্রায় ৫০ মিনিট অবস্থান করে তিনি বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে বন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প, জেটি সুবিধা ও কনটেইনার ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেন।
বন্দরটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানো, পণ্য দ্রুত খালাস নিশ্চিত করা এবং আধুনিকায়নের কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকেল সোয়া চারটার পর বন্দর জেটি এলাকা থেকে বের হয়ে তিনি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দিকে রওনা হন। পথে প্রটোকল ভেঙে তিনি নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য গাড়ি থেকে নেমে যান। পরে তিনি প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পথে নেতা-কর্মীদের টানে প্রটোকল ভেঙে গাড়ি থেকে নেমে জনগণের সঙ্গে মিশে যান প্রধানমন্ত্রী। তিনি হাত নেড়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং কয়েকজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে সেখান থেকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যান। অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন শেষে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে মোংলা বন্দর ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে রাস্তার দুই পাশে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দেখে গাড়ি থামিয়ে নেমে আসেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও মোংলা বন্দরের সক্ষমতা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টার দিকে তিনি সেখানে যান। এর আগে হেলিকপ্টার ও জলযানে খুলনা ও সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন স্থান পর্যবেক্ষণ করেন।
সকালের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ানে যান। সেখান থেকে নৌপথে দুপুর পৌনে একটার দিকে মোংলার দিগরাজ নৌঘাঁটিতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
নৌঘাঁটিতে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বানৌজা আবু বকর পরিদর্শন করেন। পরে সেখানে মধ্যাহ্নবিরতি শেষে মোংলা বন্দর ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিপ আহমেদ মোস্তফা, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম এবং নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে মোংলার হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সফর ঘিরে মোংলা বন্দর ও আশপাশের এলাকায় দিনভর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিন/ জে এফ জয়

