ভারত সংখ্যালঘুদের আপন করলে আরও শ্রদ্ধা করবো : ধর্মমন্ত্রী
ভারতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হলে দেশটির প্রতি আরও বেশি শ্রদ্ধা থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ভারতে যা-ই ঘটুক না কেন, বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতন বা অবিচার সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিলেও এ ধরনের ঘটনা মেনে নেবেন না বলেও জানান তিনি।
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভারত বিশাল দেশ। উনাদের আমি শ্রদ্ধা করি এই জন্য, যেহেতু উনাদের দেশে গণতন্ত্রটাকে উনারা খুব লালন করেন। এইজন্য আমি শ্রদ্ধা করি। তবে মনের থেকে আরও বেশি শ্রদ্ধা করবো উনারা যদি ওই দেশের সংখ্যালঘুদের উনাদের আপন করে নেয়, নিরাপত্তা দেয় এবং উনাদের জনগণের একটা অংশ হিসেবে মনে করে সমস্ত ব্যবস্থা নেয়।
“তবে আমি একটা কথা বলি, বাংলাদেশে—ভারতে কী ঘটছে এটা বড় জিনিস নয়—বাংলাদেশে ভারতে ঘটছে বলে বাংলাদেশে ঘটবে এমনটা হতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনবোধে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবো, কিন্তু এখানে কোনো সংখ্যালঘুর ওপরে, কোনো অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর অত্যাচার-অবিচার জুলুম নির্যাতন সহ্য করবো না, ইনশাআল্লাহ।”
পশ্চিমবঙ্গে যেটা হচ্ছে মুসলমানদের ওপর, সেটা নিয়ে আপনারা কোনো কথা বলবেন কি না- এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অবশ্যই আমরা চেষ্টা করবো। আমরা আমাদের সরকার প্রধান যিনি আছেন, উনি অবশ্যই চিন্তা করতেছেন—এই ব্যাপারে উনি অবশ্যই উনার পক্ষ থেকে ওই কথা বলবেন।
বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনারা কী চান? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন তোমার শরীরের একটা অংশে যদি আঘাত লাগে তুমি যেমনটা অনুভব করো সারা শরীরে, আমার মুসলমান ভাইদের মধ্যে কেউ যদি যেকোনো জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত হলে তুমি তেমনটা অনুভব করো—এইভাবে বলছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এখন উনারা যদি না বুঝেন, কারণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি চান নাই। উনি এই ব্যাপারে সারাজিন্দেগি পরিশ্রম করে গেছেন, মুসলমানদের এক রাখার জন্য। আল্লাহর প্রতি আস্থা বিশ্বাস রাখার জন্য, আল্লাহর হুকুমে চলার জন্য। আর আমরা কথায় কথায় বলি হজের পরে এটা। হজের সঙ্গে এটার তুলনা দেওয়া ঠিক নয়। হজ এটা আল্লাহর হুকুম। হজ হলো যাদের ওপর ফরজ তারা করতেই হবে। হজের সঙ্গে এটার কোনো তুলনা হয় না।
মন্ত্রী বলেন, এখানে দুই পক্ষ যদি মিলে চলে আমি খুব খুশি হবো। আগের মতো অবস্থানে যদি চলে আমি খুব খুশি হবো। এটা উনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে উনারা কী করবেন। কারণ একটা জিনিস হলো কী, একজনকে জোর করে রাজি করানো যায়? জোর করে রাজি করানো যায় না। উদ্দেশ্য ভালো থাকলে তখন সম্ভব হয়। এখানে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে সহ্য করতে পারছে না। আল্লাহ পাক উনাদের এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিক। আল্লাহ উনাদের মিলার ব্যবস্থা করে দিক এবং একটা সুন্দর আগের মতো অবস্থানে থেকে উনারা যেন তাবলিগের কাজগুলো করতে পারে।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হক। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

