বিপিএলে দুর্নীতি: ক্রিকেটার, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও কর্মকর্তা মিলে ৫ জন নিষিদ্ধ
সর্বশেষ বিপিএল নিয়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার পর বিসিবি অন্তত পাঁচজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পাঁচজনের বিপক্ষে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটি। এই পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন অমিত মজুমদার নামে চট্টগ্রাম রয়্যালসের এক ক্রিকেটার। এছাড়া রয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও কর্মকর্তার নাম।
বিসিবি থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ঘিরে আবারও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের তদন্তে জুয়া, দুর্নীতির প্রস্তাব, তদন্তে অসহযোগিতা এবং তথ্য গোপনের মতো গুরুতর অভিযোগে কয়েকজন ক্রিকেটার, টিম কর্মকর্তা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আইসিসি অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের কোড বা নীতি অনুযায়ী দুর্নীতি দমন বিধিমালার বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট (বিসিবিআইইউ) বিপিএলের ১২তম আসরকে (২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়া) কেন্দ্র করে তদন্ত চালিয়ে এসব অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে জুয়া-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড, দুর্নীতির প্রস্তাব, তদন্তে সহযোগিতা না করা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও যোগাযোগ গোপন বা মুছে ফেলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন অভিযুক্তরা।
তাদের মধ্যে রয়েছেন টিম ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমান। তার বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সহযোগিতা না করা এবং আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধির ৪.৩ আর্টিকেল অনুযায়ী পাঠানো ‘ডিমান্ড নোটিশ’র জবাব না দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তদন্ত কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, তথ্য গোপন ও যোগাযোগের তথ্য ডিলিট করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজির সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদের বিরুদ্ধেও। বিসিবির দাবি, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্ত বিলম্বিত করতে তথ্য গোপন বা ধ্বংস করার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।
অন্যদিকে ক্রিকেটার অমিত মজুমদারের (চট্টগ্রাম রয়্যালস) বিরুদ্ধে সরাসরি ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে বাজি ধরার অভিযোগ আনা হয়েছে। আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধির ২.২.১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা অন্য যে কোনো বিষয়ে বাজি ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীও।বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্ত সবাইকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আপিলের সুযোগ পাচ্ছেন না। অভিযোগপত্র পাওয়ার পর তাদের হাতে ১৪ দিন সময় থাকবে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য। এ বিষয়ে আপাতত আর কোনো মন্তব্য করবে না বলেও জানিয়েছে বিসিবি।
এদিকে পৃথক আরেক তদন্তে সামিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিসিবির ‘এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বিসিবির তদন্তে উঠে এসেছে, বিপিএলের নবম, দশম ও একাদশ আসরজুড়ে একাধিক সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন সামিনুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জুয়াসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, ক্রিকেটার ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া, দেশি-বিদেশি বেটিং ও দুর্নীতি চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ম্যাচে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
বিসিবি জানিয়েছে, তাকে নিষিদ্ধ করার আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সামিনুর রহমান নিজের জবাব দেওয়ার অধিকার ছেড়ে দিয়ে নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়েছেন।

