খুলনায় করোনা আক্রান্ত চারজনের মৃত্যু, উপসর্গে প্রাণ গেল দু’জনের
জয়নাল ফরাজী…
খুলনায় করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে একদিনে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এদিন উপসর্গ নিয়ে আরও দুইজন মৃত্যুবরণ করেছেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল, খুলনা করোনা হাসপাতাল, খুলনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় খুমেকের আরটি-পিসিআর ল্যাবে আরও ১২০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সোমবার রাতে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজ-আল-আসাদ জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার খান (৫৮) ইন্তেকাল করেছেন। সোমবার ভোর ৬টায় খুলনা সদর হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে তিনি মারা যান।
মরহুমের মেঝ ছেলে কেএম সাদিক হাসান সানি বলেন, আমার বাবার ৪ জুলাই করোনার রিপোর্টে পজিটিভ আসে। খুলনা সদর হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আমাদের গ্রামের বরিশালের আগৈলঝড়ায়।
এদিকে গোলাম সারোয়ার খানের মৃত্যুতে দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি খুলনা জেলা শাখা শোক প্রকাশ করে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।
খুলনা করোনা হাসপাতালের ফোকাল পার্সন ডা. শেখ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিনকে জানান, সোমবার করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন- সহিদুর রহমান সহিদ ও মো. নজরুল ইসলাম। মৃতদের মধ্যে সহিদ নগরীর সোনাডাঙ্গা ঈদগাহ এলাকার বাসিন্দা ও সোনাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সি রেজা সেকান্দার দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিনকে জানান, সোমবার ভোর ৭টার দিকে হানিফ শেখ (৫০) নামে একজন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি নগরীর খানজাহান আলী রোডের মৃত লুফর শেখের ছেলে। গত ২ জুলাই থেকে জ্বর, শ্বাসকষ্ট সমস্যা নিয়ে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি ছিলেন তিনি। পরে তার অবস্থা খারাপ হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেই তিনি মারা যান। তার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে করোনার উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থানাধীন তাপডা গ্রামের মৃত ইজ্জত আলী খানের ছেলে আবেদ আলী খান (৭৪) ও নগরীর রায়েরমহল এলাকার সৈয়দ আলতাব হোসেনের ছেলে সৈয়দ ইমান হাসান বাচ্চু (৫৫)।
গত রবিবার বিকাল ৪টা থেকে জ্বর শাসকষ্ট সমস্যা নিয়ে ভর্তি ছিলেন আবেদ আলী খান। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৬টার দিকে তিনি মারা যান। এছাড়া ইমান হাসান বাচ্চু জ্বর শ্বাসকষ্ট সমস্যা নিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা পৌনে ১২টার দিকে মারা যান। মৃতরা করোনা আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিনকে জানান, সোমবার খুমেকের আরটি-পিসিআর মেশিনে মোট ২৮১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে খুলনার নমুনা ছিলো ১৮৬টি। এদের মধ্যে মোট ১২০ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। যার ৮৬ জন খুলনা জেলা ও মহানগরীর। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার ২৫ জন, যশোরের ৭ জন, পিরোজপুর ও গোপালগঞ্জের ১ জন করে রয়েছেন।