লতিকা রায় একাই একশো: একজন পরিশ্রমী মানুষের সাফল্যের ইতিকথা

বটিয়াঘাটা উপজেলার আউশখালী গ্রামের লতিকা রায় একজন পরিশ্রমী মানুষের সাফল্যের পূর্ণাঙ্গ উপাক্ষাণ।

একজন আদ্যপান্ত কৃষক তিনি, যার কাছে যে কেউ শিখতে পারেন। অন্যের ক্ষেতে কাজ করতে গিযে লতিকা হয়ে গেছেন একজন পূর্ণাঙ্গ কৃষক, ঘাম শ্রম আর পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে লিখেছেন সফলতার নতুন এক অনুসরণীয় সঙ্গা।

লতিকা ভোর চারটায় ঘুম থেকে ওঠেন। উঠে প্রথমে বাড়িতে থাকা গরুবাছুর গুলির যত্ন নেন। আলো ফোটার সাথে সাথে তারপর চলে আসেন নিজের ক্ষেতে, ঘেরে। শুরু হয় সবজি ও ঘেরের পরিচর্যা। নিজের হাতে পরম যত্নে হয় নিড়ানি দেন সবজি গাছের, নাহয় সবজি কেটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করতে থাকেন। তারপর সারাদিন একটা পর একটা কাজে মত্ত থাকেন তিনি।

সকাল ও দুপুরের খাবার লতিকা ক্ষেতে বসেই খান। বাড়ি ফেরেন সন্ধ্যার সময়, তারপর সকাল সকাল রাতের খাবার খান এবং রাত নয়টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন।

তাঁর স্বামী অরুণ রায়, থাকেন অন্যত্র নিজের কাজে ব্যস্ত। কখনো তাকে সাহায্য করেন, বেশীরভাগ সময় করতে পারেন না। কিন্তু তা নিয়ে লতিকার কোনো মাথাব্যথা নেই। তিনি শুধু জানেন নিজের কাজটুকু পরম যত্নে তাকেই করে যেতে হবে।

সবজি একদিন পর পর কাটতে হয়।

এক একর পচিশ শতক জমির উপর লতিকার সবজি ক্ষেত ও মাছের ঘের। জমিটি তিনি লিজ নিয়েছেন। সেখানে একটার পর একটা ফসল তুলতে থাকেন সারা বছর। তিনি তার জমি থেকে খরচ বাদে সাড়ে চার লক্ষ লাভ করবেন বলে জানালেন। জানালেন তিনি ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও সবজি বাগানের স্বপ্নে বিভোর থাকেন। তার সাথে যেন সবজিগাছের কথোপকথন চলে। তিনি যেন বুঝতে পারেন কোন গাছের কী প্রয়োজন।

লতিকা রায় এভাবে পরম ভালবাসা ও নিরলস পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল সবজি ক্ষেত ও মাছের ঘের। সেটি এত সুন্দর ও দৃষ্টি নন্দন যে, তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না।

বটিয়াঘাটা উপজেলার আউশখালী গ্রামের লতিকা রায়ের সাফল্য অন্যদের অনুপ্রাণিত করুক।

শেয়ার করুন: