ইভিএমের জন্য ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়ার পরিকল্পনা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব ভোটারদের ভোট প্রদান নিশ্চিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপরও ভোটগ্রহণে কোনো সমস্যা হলে নির্বাচন কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শতকরা ১ ভাগ ভোটারকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন।

মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর সার্কিট হাউসে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি সংশোধন নিয়ে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান।

ইসি আহসান হাবিব বলেন, ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ ধীরগতিতে কেন হচ্ছে তা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমি কুমিল্লায় ১৫ থেকে ২০টি কেন্দ্রে মক ভোটিংয়ে দেখেছি। এতে সর্বনিম্ন ৩০ সেকেন্ড ও সর্বোচ্চ ৫১ সেকেন্ড লাগে ভোট দিতে। আমরা যদি ইভিএমে ভোটপ্রদান বিষয়টি ভালভাবে ভোটারদের বোঝাতে পারি, তবে ভোট প্রদানে ধীরগতি থাকবে না।

ভোটার হালনাগাদ শেষ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর সংশোধনের যে আইন-কানুন রয়েছে তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। আমরা একটি নিখুঁত, ভালো ও গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকার মাধ্যমে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে চাই।

একটি গণতান্ত্রিক দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি হচ্ছে ভোট। ভোটের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেন। নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, বিরোধিতা থাকবে, প্রত্যেক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান
এই উদ্দেশ নিয়েই নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো একসময় দেশে এক কোটির ওপরে ভুয়া ভোটার ছিল। ভুয়া ভোটার যেন না থাকে সে লক্ষ্যে নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দেশে পাঁচ শ’র বেশি ইভিএমে নির্বাচন পরিচালনা করা হয়েছে। কোথাও একটা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া কিংবা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। কারণ, ইভিএমে ব্যালট নেই, তাই লুটপাট করে নির্বাচন বানচাল করা, সিল মারার কোনো ব্যবস্থা নেই। এটি আমাদের সকলের জন্য বিরাট প্রাপ্তি।

ইসি আহসান হাবিব বলেন, আমাদের কাজে ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। আমরা সমালোচনায় বিশ্বাসী। প্রত্যেক জনগণের চোখই হলো আমাদের সিসি ক্যামেরা। নোয়াখালীতে নির্বাচনে একজনের ভোট অন্যজন প্রদান করার অপরাধে আমরা এক মহিলাকে জেলে দিয়েছি। সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে লেখা হয়েছে।

অস্বচ্ছতার জন্য গাইবান্ধা নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, সুতরাং একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কমিশন বদ্ধ পরিকর।

তবে হলফনামায় প্রার্থীরা তাদের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করলেও নির্বাচনের কয়েক বছর পর প্রার্থীর সম্পদ নিয়ে নানা তথ্য আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে দুদক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এনবিআর কাজ করবে, নির্বাচন কমিশন নয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অন্যদের মধ্যে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক আব্দুল বাতেন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দিনসহ অন্যান্য নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন: