মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে : আইজিপি
বাগেরহাট প্রতিনিধি
মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং দমনে পাড়া-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, গত ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে পাড়া-মহল্লায় মাদকের আখড়া গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশকে শক্তিশালী করতে না পারলে সমাজে দিন-রাত স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
রবিবার সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, বাংলাদেশে পুলিশের জনবল প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার। চলতি বছর আরও ২০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে একসঙ্গে এতসংখ্যক সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশের জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশিক্ষণ সক্ষমতাও বাড়ানো জরুরি।
মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনগণের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। কিশোর গ্যাং নির্মূলেও পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে সব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পাড়া-মহল্লায় অপরাধবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
দেশের বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি তুলে ধরে আইজিপি আরও বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অর্থনৈতিক উন্নয়ন জরুরি। কিন্তু প্রতিবছর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ মানুষ বেকারের তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন। অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংকে অর্থ জমা রাখলেও নতুন বিনিয়োগ করছেন না। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান না বাড়লে তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে। তরুণদের মেধা, শক্তি ও সামর্থ্যকে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে কাজে লাগানো গেলে অপরাধপ্রবণতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।
এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে পুলিশ লাইনে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন আইজিপি।
দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিন/ জে এফ জয়

