২৯৫টি ওষুধ জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় তালিকাভুক্ত করা হয়েছে : সায়েদুর রহমান
২৯৫টি ওষুধ জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একােডেমি মিলনায়তনে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অত্যাবশীয় ওষুধের তালিকাভুক্ত ওষুধের মূল্য সরকার নির্ধারণ করবে। আজকের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ওষুধের তালিকা অনুমোদন ও মূল্যের চূড়ান্ত তালিকা নীতিগত অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, আজকের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ সম্পর্কিত একটা গাইডলাইন দুটোই অনুমোদিত হয়েছে। ৮২ সালের একটা ওষুধ নীতি তৈরি হয়েছিল। যেটা বাংলাদেশের ওষুধ খাতকে আসলে স্বাবলম্বী হতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সহজ লভ্য করতে মানুষের স্বাস্থ্য সেবার মান রক্ষার্থে একটা বিরাট অবদান রেখেছেন।
তিনি বলেন, সেই সময়ে বাজারে ৩৫০ ওষুধ ছিল। তার মধ্যে ১১৭টি ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এরপরেই গত প্রায় ৩০ বছর যাবৎ এই পদ্ধতিতে অপরিবর্তিত ছিল। এর ফলে এই তালিকার বা বহির্ভূত ওষুধগুলো পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকে। এই মুহূর্তে ১১৭ এর বাইরে প্রায় ১৩০০ ওষুধ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে মানুষের ব্যয়ের দুই তৃতীয়াংশই আসলে ওষুধ খাতে ব্যয় করে। মানুষের ব্যক্তিগত খাত থেকে ব্যয় করা অর্থ এই ওষুধ খাতে ব্যয় হয়। এটা কমানোর জন্য পৃথিবীতে বিভিন্ন রকমের মডেল কাজ করে। কোন দেশে ফার্মাসিউটিক্যাল বেনিফিট স্কিম, কোন দেশে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস, কোন দেশে মেডিকেট মেডিকেওয়ার অনেক রকম। বাংলাদেশে যেহেতু এই ধরনের কোনো ইন্স্যুরেন্স অথবা এই ধরনের বেনিফিট স্কিম নেই। এই অবস্থায় বাংলাদেশকে আসলে এই ওষুধের ওপরে মূল্য নির্ধারণের একটা রাষ্ট্রীয় ইন্টারভেনশন ছাড়া আসলে এটা মানুষের জন্য এফোরডেবল রাখা কঠিন হচ্ছিল।
অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, আজকে একটি অত্যাবশ্যকীয় তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। যেখানে ২৯৫ উপদেষ্টা পরিষদের অন্তর্ভুক্তির করা হয়েছে। এবারের অত্যাবশ্যিক ওষুধ গত তালিকার চাইতে ১৩৬টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই অত্যাবশ্যকীয় তালিকাভুক্ত ওষুধগুলো সবগুলোর মূল্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে যারা আছেন তাদেরকে এই মূল্যে পর্যায়ক্রমে আসতে হবে। যারা উপরে আছেন তাদেরকেও নেমে আসতে হবে। যারা নিচ থেকে যাবেন তারা ইচ্ছা করলে পারেন অথবা থাকবেন না।
এসময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

