April 5, 2025
জাতীয়লেটেস্টশীর্ষ সংবাদ

স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যে ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবীরা

ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা। আগের বছরের তুলনায় এবার স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে দিয়ে সবার ঈদযাত্রা কেটেছে। ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের সবচেয়ে বড় অংশ আজ থেকে ফিরতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই ঢাকায় ফিরেছেন বেসরকারি চাকরিজীবীদের একটা অংশ। তবে এখনও ঢাকা অনেকটাই খালি। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে যান চলাচল বাড়লেও বড় ধরনের যানজট তৈরি হচ্ছে না। খোলেনি সব দোকানপাট।

উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকার প্রবেশ পথ গাবতলি বাস টার্মিনাল। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এই টার্নিমাল ঘুরে দেখা যায়, বাস টার্মিনালে চিরচেনা সেই ভিড় নেই। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বাস থেকে যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে নামছে। কারো কোনো অভিযোগ নেই। বাসের ট্রিপ শেষে অলস সময় পার করছে পরিবহন শ্রমিকরা।

দিনাজপুর থেকে আসা উজ্জ্বল হোসেন নামের একজন যাত্রী বলেন, ঈদের আগেই ফিরতি টিকিট কাটা ছিল। কোনো ভোগান্তি ছাড়াই আজ ঢাকা আসলাম। আগামীকাল থেকে আমার অফিস। ভেবেছিলাম ঢাকা আসতে রাত হয়ে যাবে কিন্তু রাস্তাঘাটে কোনো যানজট ছিল না তাই আগেই পৌঁছালাম।

আলমগীর হোসেন পুরো পরিবারসহ রাজশাহী থেকে ঢাকায় আসলেন। তিনি বলেন, এবারের ঈদযাত্রা গত ১০ বছরের চেয়ে ভালো। কোনো ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়নি। বাস সময়মতো ছেড়েছে। বাসের ভিতরেও সিটের অতিরিক্ত কোনো যাত্রী ছিল না। সব মিলিয়ে এমন ঈদযাত্রা আগে কখনোই ছিল না।

ঢাকার ভিতরের গণপরিবহন স্টাফদের মন বেজার

দূরপাল্লার বাসে যাত্রী থাকলেও ঢাকার অভ্যন্তরীণ গণপরিবহনে সেভাবে যাত্রী নেই। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে না যাওয়া বিভিন্ন গণপরিবহন স্টাফদের মন বেজার। উত্তরা, এয়ারপোর্ট, মিরপুর, গাবতলি, নবীনগর ও চন্দ্রা রুটের বাসে সেভাবে যাত্রী নেই। এছাড়া সিএনজি ও রিক্সা ফাঁকা ঘুরতে দেখা যাচ্ছে।

গাবতলি থেকে এয়ারপোর্ট রুটের বাস চালক আজিজুল হক বলেন, ঈদের দিন থেকে আজ পর্যন্ত গাড়ির জমা ঠিকমতো দিতে পারিনি। যেমনটা আশা করেছিলাম তার অর্ধেক ভাড়া হয়েছে। অনেক ট্রিপ হয়েছে; কোনো রকম তেলের টাকা উঠেছে। এভাবে গাড়ি চালালে নিজের পেটও চলবে না। মালিককে আর কি টাকা দিব।

মিরপুর-১০ এ কথা হয় সিএনজি চালক রহমান আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদে বাড়ি যাওয়া হয়নি। তাই ঈদের দিন থেকে রাস্তায়ই আছি। তবে ভাড়া হচ্ছে না। আজ এই দুপুর পর্যন্ত মাত্র ২টা ভাড়া হয়েছে।

ঢাকায় ঈদ করা ব্যাচেলর সাজিদ আহমেদ একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত আছেন। তিনি বলেন, এবার ঈদে বাড়ি যাইনি। তবে ফাঁকা ঢাকায় ঘুরতে ভালোই লাগছে। কোনো যানজট নেই। আরামে যেখানে ইচ্ছা যাওয়া যাচ্ছে। আগের এক ঘণ্টার পথ এখন ২০ মিনিটে যাওয়া যাচ্ছে।

শেয়ার করুন: