January 29, 2026
আন্তর্জাতিক

সেনাদের আঙুল ট্রিগারে!/ ট্রাম্পকে পাল্টা হুমকি দিল ইরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলার হুমকির জবাবে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকা কোনও রকম হামলা চালালে তার জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি রয়েছে ইরান। উত্তেজনার মাঝে ফের তা স্পষ্ট করে দিল তেহরান।  ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচির বলেছেন, তাদের সামরিক বাহিনী ট্রিগারে আঙুল দিয়েই রেখেছে। যদিও সরাসরি আমেরিকা বা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামোল্লেখ করেননি তিনি। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে সুর চড়িয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। চাপ দিচ্ছেন পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি নিয়েও। সম্প্রতি ইরানে খামেনি-বিরোধী বিক্ষোভে প্রকাশ্যে সমর্থন জুগিয়েছেন তিনি। আমেরিকার রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনও পৌঁছে গিয়েছে পশ্চিম এশিয়া লাগোয়া সমুদ্রে। এ অবস্থায় ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুঝিয়ে দেন, পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরান তৈরি। তবে সেই চুক্তিতে যেন কোনও পক্ষপাতিত্ব না থাকে। আর যদি ইরানের উপরে কোনও হামলা হয়, তবে তার যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি রয়েছে তেহরানের সামরিক বাহিনী। সমাজমাধ্যমে আরঘচি লেখেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তৈরি রয়েছে। ট্রিগারে আঙুল দিয়েই রেখেছেন তারা। আমাদের ভূখণ্ডে, আকাশ বা জলসীমায় কোনও ধরনের হামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে জোরালো জবাব দেবে তারা। একইসঙ্গে তিনি এ-ও লেখেন, উভয় পক্ষেরই সুবিধা হবে এমন কোনও ন্যায্য এবং পক্ষপাতহীন পরমাণু চুক্তিকে ইরান সবসময় স্বাগত জানায়। তবে এই চুক্তিতে যেন দু’পক্ষেরই সমান সুবিধা হয়। সেখানে যেন কোনও জোরজবরদস্তি, হুমকি বা ভয় দেখানোর ব্যাপার না থাকে। আব্বাস আরঘচি ফের দাবি করেছেন, ইরান কোনও পরমাণু অস্ত্র বানাতে চায় না। কিন্তু শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে এবং চুক্তিতে তা নিশ্চিত করতে হবে। বস্তুত, এই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিকে কেন্দ্র করেই গত বছর সংঘর্ষ জড়িয়েছিল ইরান এবং ইজরায়েল। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সন্দেহ, ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। একই সন্দেহ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও। এই সন্দেহ থেকেই গত বছরের সংঘর্ষের সময়ে আমেরিকাও জড়িয়ে পড়ে। তারাও বোমারু বিমান পাঠিয়ে ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালায়। এরই মধ্যে সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছে গিয়েছে মার্কিন রণতরী। এই ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন যুদ্ধবিমানও বহন করতে পারে। যুদ্ধবিমান ওঠানামা করার জায়গা রয়েছে এই রণতরীতে। ঘটনাচক্রে, তার কিছুদিন আগেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তিনি একটি ‘বড় নৌবহর’ পাঠাচ্ছেন পশ্চিম এশিয়ায়। এরই মধ্যে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির জন্য ইরানের উপর চাপ তৈরি করেছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনায় বসার জন্য ইরানের হাতে আর বেশি সময় নেই। তার পরেই আমেরিকার নাম না করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ইরানের ররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি।
শেয়ার করুন: