‘সঠিক তথ্য উপস্থাপন না করলে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে’
কূটনীতিক সংবাদদাতাদের সঠিক তথ্য উপস্থাপন ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিবেদন গুজব ও ভুল তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যথা হলে সেক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রভাবিত বা অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন।
‘ডিক্যাব মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) ‘ডিক্যাব মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে এর তিন সদস্যকে পেশাদদারীত্বের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব এবং বৈদেশিক বিষয়ক প্রতিবেদনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন পুরস্কার প্রদান করেন। ডিক্যাব মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডে অংশগ্রহণকারীদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- প্রিন্ট ক্যাটাগরিতে দৈনিক মানবজমিনের বিশেষ প্রতিবেদক মিজানুর রহমান; টেলিভিশন ক্যাটাগরিতে মাছরাঙা টিভি’র সিনিয়র রিপোর্টার মো. মাশরেকুল ইসলাম (মাশরেক রাহাত) এবং অনলাইন ক্যাটাগরিতে ঢাকা পোস্টের কূটনৈতিক প্রতিবেদক মো. নজরুল ইসলাম।
ডিক্যাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম হাসিব ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অপুসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন কূটনীতি অনুবিভাগের মহাপচিরালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রফিকুল আলমও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
পুরস্কারের জুরি ছিলেন ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল আলম চৌধুরী এবং ডিজিটালি রাইট’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংবাদিক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে, যেখানে তথ্য মুহূর্তেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, গুজব ও ভুল তথ্য প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা অপরিহার্য। কূটনৈতিক সাংবাদিক হিসেবে আপনাদের তথ্য যাচাই, সূত্র পরীক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে সঠিকভাবে প্রতিবেদনে তুলে ধরতে হয়। আপনাদের সঠিক তথ্য উপস্থাপন ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিবেদন গুজব ও ভুল তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যথা হলে সেক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রভাবিত বা অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বলেন, বিশ্ব-দরবারে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ও নতুন আঙ্গিকে দেশ গড়ার অঙ্গীকারের প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক মহল এবং গণমাধ্যমের মধ্যে আরও নিবিড় সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি। আমরা দেখেছিলাম, গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের নির্ভীক প্রচারণা ও বস্তুনিষ্ঠ প্রচেষ্টার মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের খবর জনগণের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। গণমাধ্যমের এই প্রচেষ্টার মাধ্যমেই জনগণের ব্যাপক সমর্থন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
জসীম উদ্দিন বলেন, ডিক্যাবের অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ ও সময়োপযোগী প্রতিবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি বিস্তৃত করতে এবং বিভিন্ন বিষয়কে নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করেছে। একইসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ডিক্যাব একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।