April 5, 2025
আন্তর্জাতিক

শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ করে যা বললেন ট্রাম্প

বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের ওপর ‘পারস্পরিক’ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, যেসব দেশ মার্কিন পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি রপ্তানি করেছে, তাদের কাছ থেকে এখন ‘পারস্পরিক’ হারে শুল্ক আদায় করা হবে।

বুধবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই নতুন শুল্ক কাঠামোর ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সামনে বিভিন্ন দেশের নামসহ একটি বোর্ড তুলে ধরেন এবং এসব দেশ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

ট্রাম্পের মূল সমালোচনার লক্ষ্য ছিল চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপান। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এতদিন এসব দেশ থেকে প্রায় কোনো শুল্কই আদায় করত না। তবে এখন থেকে নতুন নীতিমালার আওতায় তাদের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সমানুপাতিক শুল্ক আরোপ করবে।

বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, বাংলাদেশ, ৭৪ শতাংশ (শুল্ক), দেখুন কী চলছে। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত দেন, বাংলাদেশ এতদিন মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করলেও যুক্তরাষ্ট্র তেমন শুল্ক নিত না।

নতুন নীতির আওতায় ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশ যেহেতু ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করত, তাই যুক্তরাষ্ট্র এখন বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। যা আগে গড়ে ১৫ শতাংশ ছিল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যার মধ্যে ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলার ছিল শুধু তৈরি পোশাক। নতুন উচ্চ হারের শুল্ক আরোপের ফলে এই খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত, চীনসহ আরও অনেক দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন শুল্ক আরোপ করেছে। ট্রাম্পের ঘোষণায় ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর ২৯ শতাংশ এবং চীনের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক কাঠামো বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘনিষ্ঠ, তারা নতুন এ শুল্ক নীতির কারণে অর্থনৈতিক চাপে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারগুলোর একটি। তাই শুল্ক বৃদ্ধির কারণে দেশের তৈরি পোশাক খাতের ওপর এর প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নিয়ে এখনই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শেয়ার করুন: