February 8, 2026
জাতীয়লেটেস্টশীর্ষ সংবাদ

মেয়াদ কম থাকায় কোনো বিনিয়োগ আসেনি: জ্বালানি উপদেষ্টা

দেশে বিনিয়োগ কম হওয়ার কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ কম থাকায় কোনো বিনিয়োগ আসেনি। ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে তেমন কিছু করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে অবশ্যই বিনিয়োগ দরকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে জ্বালানি বিভাগের পাঁচটি অ্যাপস উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, আমি সৌদি আরবে গিয়েছি। সেখানকার ক্রাউন প্রিন্স ও সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে আলোচনার সময় আমি তাদের বোঝাই যে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু তারা আমাকে প্রশ্ন করেছে, তোমাদের সরকারের মেয়াদ কতদিন? ফলে বিনিয়োগ আর আসেনি। তিনি বলেন, আরেকটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের বিষয়ে জিটুজি ভিত্তিতে অনেক দূর আলোচনা এগোলেও শেষ পর্যন্ত সেটিও করা সম্ভব হয়নি।আমরা যদি আরেকটু ধৈর্য ধরতে পারতাম, বা সরকারের মেয়াদ যদি আরও কিছুটা বেশি হতো, তাহলে আরও ভালো কিছু করে যাওয়া যেত। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব নিয়ে দেনা পরিশোধ করেছি। অনেকগুলো কমিটি করে রিপোর্ট পরবর্তী সরকারের জন্য রেখে যাচ্ছি। তারা চাইলে সেখান থেকে কাজ শুরু করতে পারবে। তিনি বলেন, আদানির সঙ্গে করা চুক্তি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক আদালতে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ে মূল্য নিয়ে দরকষাকষি করে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে ভালো মূল্য পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে এগুলো কাজে লাগবে।আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তির ক্ষেত্রে কিছু আমলার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেসব প্রমাণ আদালতে দেওয়া হবে, যাতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আরেক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, গত বছর রমজান ও গ্রীষ্মে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং তা সম্ভব হয়েছে। এ বছরও আশা করছি গ্রীষ্ম, রমজান ও সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। তিনি বলেন, আমরা এমন কিছু করব না, যাতে আমরা চলে গেলে পরবর্তী সরকারের জন্য বড় কোনো সমস্যা তৈরি হয়। এ বছর প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাওয়া হচ্ছে। দেশে এলপিজি সংকট চলমান রয়েছে; এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, অনেক কোম্পানি এলপিজি আমদানির লাইসেন্স নিলেও দেখা গেছে, অধিকাংশ কোম্পানি এলপিজি আমদানি করেনি। দেশের এলপিজি বাজারের ৯৮ শতাংশ বেসরকারি মালিকদের নিয়ন্ত্রণে, সরকারের মাত্র দুই শতাংশ। তিনি বলেন, এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে এলপিজির সোর্স কান্ট্রি এবং বিভিন্ন জাহাজের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় এলপিজি সংকট তৈরি হয়েছে। আশা করছি, আগামী মাসের মধ্যেই এলপিজির বাজার পরিস্থিতির সমাধান হবে।
শেয়ার করুন: