ভাতার তালিকা সংশোধন করা হবে, অনিয়ম সইবো না : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
বিগত সরকারের আমলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভাতা কার্যক্রমে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন জানিয়েছেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করতে দ্রুতই বর্তমান তালিকা সংশোধন করা হবে। একইসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সব অবৈধ ও মনগড়া কর্মসূচিগুলোও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক ও শাহাজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
এর আগে বেলা ১১টায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। উল্লেখ্য, এই অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সব স্বৈরাচারের বিদায় হয়ে একটি সার্বভৌম সংসদ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
বিগত সরকারের অনিয়ম তুলে ধরে ফারজানা শারমিন বলেন, বিগত আমলে সমাজকল্যাণ বিভাগ যত অবৈধ এবং মনগড়া কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, সেগুলো অচিরেই সংশোধন করা দরকার। তৎকালীন অস্থির সময়ে প্রণীত তালিকাগুলো আমরা বর্তমানে ‘রি-চেক’ (পুনরায় যাচাই) করছি। কারা সত্যিকার অর্থে উপকার পাওয়ার যোগ্য, আমরা কেবল তাদেরই রাখব।
ফ্যামিলি কার্ডের উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী সংসদে জানান, ইতোমধ্যে ১৪টি ইউনিটে কাজ শুরু করে সেখান থেকে ফিডব্যাক নেওয়া হচ্ছে। ভাতার কার্ডের অনিয়মগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া বিগত সময়ে করা আইন ও নীতিমালাগুলো যাচাই করে একটি জনবান্ধব ও সুষ্ঠু কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
দেশে ভাতা কর্মসূচি চালুর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে ফারজানা শারমিন বলেন, এই প্রোগ্রাম প্রথম চালু করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে অন্য সরকারগুলো এটি বাস্তবায়ন করলেও বিগত সময়ে তালিকায় ব্যাপক স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য সংখ্যা নয়, বরং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা।
মাঠ পর্যায়ে তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এরই মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই কমিটির মাধ্যমে তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত বেনিফিশিয়ারিদের কার্ড নিশ্চিত করা হবে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে যাদের প্রকৃত প্রয়োজন, তাদের কাছেই সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকার সচেষ্ট।

