February 3, 2026
খেলাধুলা

বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতেই ভারত ম্যাচ বয়কট পাকিস্তানের

ভারতের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে ক্রিকেট দুনিয়ায় আলোচনা চললেও পাকিস্তানে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। রোববার পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বৈঠকের পর জানানো হয়, ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে পাকিস্তান অংশ নেবে, তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামবে না দলটি। জিও নিউজকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির ‘পক্ষপাতমূলক আচরণ’ই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানানো এবং ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয় আইসিসি। পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ হিসেবেই দেখানো হচ্ছে। পাকিস্তান–ভারত সমঝোতা অনুযায়ী, আইসিসির যেকোনো ইভেন্টে পাকিস্তান নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলবে। সেই অনুযায়ী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা। আইসিসি পিসিবিকে ‘পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খুঁজে বের করার আহ্বান জানালেও পাকিস্তানে সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকদের অনেকে সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সাবেক পাকিস্তান টেস্ট ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফ এক্সে লিখেছেন, “সরকারের কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত। বাণিজ্যিক স্বার্থের আগে নীতিকে প্রাধান্য দিতে হবে।” আরেক সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ প্রশ্ন তুলেছেন, ১৯৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ না খেলা, ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের হারারে ও নিউজিল্যান্ডের নাইরোবি সফর প্রত্যাখ্যানের সময় আইসিসি কোথায় ছিল। জিও নিউজে কথা বলতে গিয়ে সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার ও বিশ্লেষক সিকান্দার বখত এই সিদ্ধান্তকে ‘চমৎকার’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি ২০২৫ এশিয়া কাপের একটি বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ভারতীয় দল এসিসি সভাপতি ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। বখতের ভাষ্য, “ভারত সবার সঙ্গে করমর্দন করে, কিন্তু আমাদের সঙ্গে নয়। তারা যদি এমন করতে পারে, আমরাও পারি। আমরা সবার সঙ্গে ক্রিকেট খেলব, কিন্তু ভারতের সঙ্গে নয়।” তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু পুরুষ দলের ক্ষেত্রে নয়, অনূর্ধ্ব–১৯ ও নারী দলের ম্যাচগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। পাশাপাশি আলোচনায় বসতে চাইলে বাংলাদেশকে আবার টুর্নামেন্টে ফেরানোর দাবিও তোলেন তিনি।
শেয়ার করুন: